দেওয়ানবাগ শরীফের বাবে রহমতে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিল – 17.1.20

দেওয়ানবাগ শরীফের বাবে রহমতে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে শ্রেষ্ঠ সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, যুগের ইমাম, আম্বিয়ায়ে কেরামের ধর্মের দায়িত্ব ও বেলায়েত লাভকারী, আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার : পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী) হুজুর কেবলাজান আশেকে রাসুল ও মুক্তিকামী মানুষের উদ্দেশ্যে যে বাণী মোবারক প্রদান করেন।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসুলিহিল কারীম।
আপনারা আমার সালাম গ্রহণ করুন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমরা যার ধর্ম প্রচার করার দায়িত্ব নিয়েছি, তিনি কুল কায়েনাতের রহমত রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর জন্যে হযরত বাবা ইব্রাহিম (আ.) কাবাঘর নির্মাণ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। হযরত রাসুল (সা.) জগতে তশরিফ নেওয়ার সময় অনেক ঘটনা ঘটেছে। ইহুদিরাই তাঁর প্রধান শত্রু ছিল। এরা এদের কিতাবে পেয়েছে, হযরত রাসুল (সা.)-এর পিঠ মোবারকে নবুয়তের চিহ্ন থাকবে। যিনি এই চিহ্ন নিয়ে জন্ম নিবেন, তাকে হত্যা করতে হবে। তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে হুজুর (সা.)-কে হত্যা করতে। কিন্তু আল্লাহর বন্ধুকে আল্লাহই হেফাজত করেছেন।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমরা তাফসির লেখার পরে ‘কোরআনের আলোকে আম্বিয়া কেরামের জীবনী’ লিখছি। এই কিতাবটি আপনাদের পেতে একটু সময় লাগবে, কারণ আমাদের অনেক বই জমে গেছে, যা প্রেসে।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমরা প্রচার করি মোহাম্মদী ইসলাম। মোহাম্মদ কার নাম? আর দ্বিন ইসলাম কার ধর্ম? এখন বিষয়টা বিবেচনা করুন- যিনি ধর্ম দিয়ে গেলেন, সংবিধান দিয়ে গেলেন, তাঁর নামে কোনো ধর্ম নেই। আরেক গ্রুপ বের হয়েছে, যারা কালেমা থেকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম মোবারক বাদ দিয়ে পড়ে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। ‘মান ক্বালা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ফাদাখালান জান্নাতা’- ‘যে কালেমা পড়বে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, সে জান্নাতি’। মানে হযরত রাসুল (সা.)-কে বাদ দিয়ে যা করা যায়। আমরা চেষ্টা করছি, হযরত রাসুল (সা.)-কে প্রতিষ্ঠিত করতে। আল্লাহ পাকের দয়ায় আমরা সাড়াও পাচ্ছি, বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন অঞ্চলে এই মোহাম্মদী ইসলামের আশেক মানুষ কীভাবে হচ্ছে। এগুলো দেখেই কিছু দলের হিংসার কারণ হয়েছি। হিংসা করুক আর বিদ্বেষ করুক, আমরা কি হযরত রাসুল (সা.)-কে ছেড়ে দেবো? আমরা হযরত রাসুল (সা.)-এর ধর্ম প্রচার করছি, করেই যাব।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
ঝড় আসলে বড়ো গাছেই বাতাসটা লাগে বেশি। আর ফেরেশতাদেরকে যখন আল্লাহ সেজদা করার হুকুম করেছিলেন, তখন সবাই সেজদা করলেও মোয়াল্লেমুল মালাকুত, যে ফেরেশতাদের শিক্ষক, সে সেজদা করেনি। আল্লাহ প্রশ্ন করলেন, তুমি সেজদা করোনি কেন? সে বলল, আমি আগুনের তৈরি আর সে মাটির তৈরি। সুতরাং আমি কেন তাকে সেজদা করব? তার চেয়ে আমি বড়ো। এই ফখরের কারণে আল্লাহ তাকে শয়তান বানিয়ে দিলেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত সেটা চলতে থাকবে।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
বিদ্যা দিয়ে কেউ ফখর করতে পারবেন না যে, আমি এটা বুঝি। কোরআনসহ সকল আসমানি কিতাব এসেছে ক্বালব থেকে। যখন ঐ সব কিতাব পড়বেন, তখন দেখবেন যে, নবিদের মধ্যে কী সুন্দর সম্পর্ক ছিল। অথচ আমরা অন্য নবিদেরকে স্বীকারই করি না। কিন্তু অন্য নবিদেরকে স্বীকার না করলে আমরা কিন্তু ইমানদার হবো না। ‘আমানতু বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহি, ওয়া কুতুবিহি, ওয়া রুসুলিহি’। ‘আমি ইমান আনলাম আল্লাহর উপরে, আল্লাহর ফেরেশতাদের উপরে, আসমানি যত কিতাব আছে সবার উপরে, যত রাসুল এসেছেন সবার উপরে।’ এই কালেমা না পড়লে পরিপূর্ণ মুসলমান হয় না। সুতরাং অন্য নবিদেরকে আমরা বাদ দেবার কে? আল্লাহর নবিদের আল্লাহই শাস্তি দিতে পারেন আবার পুরষ্কৃত করতে পারেন। আমাদেরতো কোনো অধিকারই নেই। বিনা অধিকারে এই চর্চা করতে গিয়েই মুসলমানরা বিভ্রান্তিতে পড়েছে। অন্যান্য নবির উম্মতের মধ্যে ছিল ৭২ ফেরকা বা দল। হযরত রাসুল (সা.) বললেন- “আমার উম্মতের ফেরকা হবে ৭৩টি। প্রত্যেকটি দলেই আলেম থাকবে।” এই ফেরকাবাজের পাল্লায় পড়লে তখন পথই খুঁজে পাব না। ‘ফেরকা সমস্যার সমাধান’ আমার মোর্শেদের নির্দেশে আমি লিখেছিলাম। এখন আরও বৃদ্ধি করে একটি কিতাবের মধ্যেই ২ খন্ড করে দিয়েছি। কারণ বিষয়টি বড়ো জটিল। এর মধ্যে অনেক প্রশ্ন আছে। যে মুসলমানদেরকে আল্লাহ এত ভালোবাসেন, এই মুসলামানরা কেন ধ্বংস হলো? কেন ফেতনা লাগিয়ে নষ্ট করল? এগুলো না পড়লে বুঝে আসবে না।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
ঐটা হলো ‘ফেরকা সমস্যার সমাধান’। আমি আমার মোর্শেদের নির্দেশে ‘ঈদ সমস্যার সমাধা’ কিতাব লিখেছি। এটি আরও বৃদ্ধি করব। এখন দেখছি এটার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমাদের জন্য মুক্তির পথ হযরত রাসুল (সা.) বলেছেন যে, তোমরা ঠিকমতো আত্মশুদ্ধি, দিলজিন্দা, নামাজে হুজুরি অর্জন করো। তোমরা স্বাধীন, তোমরা মুক্ত। আমরা যদি দিলজিন্দা করতে পারি, আত্মশুদ্ধি করতে পারি, আমরা স্বাধীন, আমরা মুক্ত। আর এই বিধানটি এসেছে হযরত ইব্রাহিম (আ.) থেকে। তিনিও তাঁর অনুসারীদেরকে এই ৩টি শিক্ষা দিতেন। হযরত মুসা (আ.)-ও তাঁর অনুসারীদেরকে এই ৩টি বিদ্যা শিক্ষা দিয়েছেন। সর্বমোট ১৭ জন নবি তাঁদের অনুসারীদেরকে এই ৩টি শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদের এটার মর্তবা কত! এই কারণেই অল্প পরিশ্রমে হযরত রাসুল (সা.)-কে পাওয়া যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়। এরাতো বিশ্বাসই করেনা আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে পাওয়া যায়। আল্লাহকে এখন যদি না পায়, কবরে পেয়ে আমার লাভ কী! দুনিয়াতে থেকেই পাশ-ফেল করতে হবে। পাশ করলে ইমান নিয়ে কবরে যাবেন, ফেল করলে বিপথগামী হবেন। বিপথগামী হলে পথভ্রষ্ট। সুতরাং মনোযোগের সাথে তরিকার আমল করবেন আর বেশি বেশি দরবার শরিফে আসবেন।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আশেকে রাসুলদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে, অনেক প্রশ্ন। এই কিতাবগুলো পড়লে প্রশ্নের অবসান ঘটবে। দরবারে আসলে সহবতে একটা শান্তি পাবেন। সাহাবায়ে কেরাম, সাহাবি মানে হযরত রাসুল (সা.)-এর সঙ্গী-সাথি। তাঁরা সব সময় হযরত রাসুল (সা.)-এর সাথেই থাকতেন। সাহাবিদের অনেকে ক্রীতদাস, আজাদকৃত গোলাম ছিলেন। হযরত বিল্লাল (রা.) ক্রীতদাস ছিলেন। হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রেমে তিনি বেকারার ছিলেন। তারপরে আল্লাহ তাঁকে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী করেছেন। সুতরাং মহব্বতের সাথে যদি তরিকার কাজ করেন, আপনার অজান্তেই দেখবেন আল্লাহ আপনার সাথে আছেন। ঘন ঘন দরবার শরিফে আসলে, আমরা কি করছি, আমাদের কর্মকান্ড দেখতে পারবেন, বুঝতে পারবেন। আমরা প্রতিদিন একটা না একটা কাজ করছিই। একটি কিতাব লেখা হয়ে গেছে, আর একটি কিতাব লেখা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন নিয়মিত আসুন, এটিই আপনাদের জন্য সহজ পথ।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
দেখেন হযরত রাসুল (সা.)-ও বলেছেন, আমার উম্মতের জন্য সারা দুনিয়ার জমিন হলো সেজদার স্থান, ইবাদতখানা। আর অন্য ধর্মের নিজস্ব এরিয়া থাকে, মন্দির থাকে, ঐখানে ছাড়া ইবাদত করে না। সুতরাং নিয়মিত দরবারের সাথে যোগাযোগ রাখবেন এবং আমল করবেন। আল্লাহ দয়া করে আমাদেরকে এই সুযোগ দান করুন, আমরা যেন শান্তিতে ধর্ম করতে পারি।

Scroll to Top