ইমাম শাহ চন্দ্রপুরী (রহ.)-এর দরবারে এ ঘটনা ঘটে। সত্যের যুগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমদন।

জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর অক্টোবর নভেম্বর ডিসেম্বর

আপনি যতই চেষ্টা করুন এবং নিজেকে একজন পীর ভাবুন না কেন, কোন লাভ হবে না। কারন দেওয়ানবাগী সর্ব শ্রেষ্ঠ প্রতিশ্রুত শেষ মহামানব। আল্লাহর সংবিধানে যা লিখা হয়ে আছে, তা মুছে ফেলার প্লেয়ারের জন্ম এই পৃথিবীতে হয় নাই। দেওয়ানবাগী খোদায়ী যুগের তথা সত্যযুগের বাদশাহ। খামোখাই তার সাথে যদি কেহ পাল্লা দিতে চায়, তাহলে সে নিজে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

ইমাম শাহ চন্দ্রপুরী (রহ.)-এর দরবারে এ ঘটনা ঘটে। সত্যের যুগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমদন।

বাবাজান তখন চন্দ্রপারা দরবার শরীফে। বাবাজান একদিন চন্দ্রপাড়ার জাকের ভাইদের নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় ঐ স্থানে একজন মাজ্জুব শ্রেণীর অলি আল্লাহ উপস্থিত হন। তার পরিচয় জানা গেল – তার নাম বাসেত বাড়ি বিক্রমপুর। সেই সময় হুজরা শরীফ থেকে ইমাম শাহ চন্দ্রপুরি (রহঃ) বের হন। তৎক্ষণাৎ পাগল বাসেত দৌড় দিয়ে ইমাম হুজুরের কদমে জোড়ে জড়িয়ে ধরলেন, এমনভাবেই ধরলেন যে ইমাম হুজুর ভারসাম্য রাখতে না পেরে পরে যান। সবাই অনেক চেষ্টা করার পর আবুল বাসেতকে ইমাম হুজুরের কদম থেকে সরালেন। তারপর সবাই তাকে প্রহার করার জন্য উদ্যত হন, কিন্তু ইমাম শাহ চন্দ্রপুরি (রহঃ) নিষেধ করেন। তারপর আবুল বাসেত ঐ স্থান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। বাসেত এই ঘটনার জন্য একটানা ১৮ দিন কোন খাবার পানি ছাড়া দরবারের একটি বড় গরুর পাশে শুয়ে ছিলেন। কেউ ডাকলেও সে ঐ স্থান ত্যাগ করেন নাই, এমনকি গরুটিও তাকে কোন বিরক্ত করতো না। এভাবে ১৮ দিন পর বাবাজানের অনেকটা দয়ার সঞ্চার হল, বাবাজান তখন চিন্তিত হয়ে পড়লেন যে, এভাবে থাকলে তো লোকটি মারা যাবে।

বাবাজান তখন ইমাম শাহ চন্দ্রপুরি (রহঃ) এর কাছে ব্যাপারটি জানালেন। ইমাম হুজুর তখন নির্দেশ দিলেন বাসেতকে হুজরা শরীফে ডাকার জন্য। আবুল বাসেত হুজরা শরীফে আসলে ইমাম হুজুর বাসেতকে জিজ্ঞেস করেলন “তুমি কি চাও?” বাসেত বলল “আপনি দয়া করে সত্যের যুগ কায়েম করেন। আমি আর কিছুই চাইনা”। ইমাম হুজুর বললেন “সংবিধান কোথায়?” আবুল বাসেত বলল “কাগজ কলম আনেন, লিখে নিন”। কাগজ-কলম আনার পরে বাসেত তখন সত্যের যুগের ধারা একে একে বলতে লাগলো, আর সূফী সম্রাট হুজুর তা লিখে নিতে লাগলেন। স্বল্প শিক্ষিত বাসেত একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর মত সত্য যুগের সংবিধান একের পর এক বলতে লাগলেন, পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখতে লিখতে বাবাজানের হাত মোবারক বেথা হয়ে যাচ্ছিল আর বাসেত একটির পর একটি সংবিধান বলতেছিলেন। অবশেষে শেষ হয় সংবিধান। লেখা শেষে আবুল বাসেত বললেন, “এখন সত্য যুগের বাদশাহর নাম লিখেন – তার নাম হল – মাহবুব এ খোদা – তারপর তিনি কাগজগুলো নিয়ে ইমাম হুজুরকে কাগজ দিয়ে বললেন , দয়া করে আপনি এটাতে সই করেন। ইমাম শাহ চন্দ্রপুরি (রহঃ) ঐ কাগজের উপর সই করে দিলেন। সই করার পরে সব কাগজ নিয়ে আবুল বাসেত ঐ দরবার থেকে বিদায় নিলেন। বিদায় নেয়ার সময় বাসেত বলেন “আমাকে এই কাজের জন্যই এখানে পাঠানো হয়েছে “। তারপর আর তাকে ঐ দরবারে বহু দিন দেখা যায় নি। তবে, ইমাম শাহ চন্দ্রপুরি (রহঃ) এর ওফাতের সময় আবুল বাসেত একবার দরবার শরীফে এসেছিলেন এবং সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাকে তখন বলেছিলেন “আপনার ফয়সালা তো ইমাম হুজুরের জীবদ্দশাতেই হয়েছে। এখন আবার নতুন করে কি হবে!” এরপর তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং আর কোনদিন কেউ তাকে দেখতে পাননি। এখন চলছে সেই সত্য যুগ।

Scroll to Top