এজিদি ইসলামের হাদিস কি সঠিক নাকি সব হাদিসই ভুল?

জাহিদুল আলম রুবেল- এজিদি ইসলামের হাদিস নিয়ে গবেষণা:- এজিদি ইসলামের হাদিস সঠিক নাকি ভুল? আসুন নীতিগতভাবে মিলিয়ে নেই সমীকরণ।

মোহাম্মদী ইসলামের পাক পাঞ্জাতনঃ- সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ- আবু আল-কাসিম মুহাম্মাদ ইবনে ʿআবদুল্লাহ ইবনে ʿআবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম (জন্মঃ ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) হলেন ইসলামের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামী বিশ্বাস মতে আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত সর্বশেষ নবী। তথা “বার্তাবাহক” (রাসুল), যার উপর ইসলামী প্রধান ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। ইতিহাসবেত্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, মুহাম্মাদ ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা। তার এই বিশেষত্বের অন্যতম কারণ হচ্ছে আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় জগতেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জন। তিনি ধর্মীয় জীবনে যেমন সফল তেমনই রাজনৈতিক জীবনেও। সমগ্র আরব বিশ্বের জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে তিনি অগ্রগণ্য; বিবাদমান আরব জনতাকে একীভূতকরণ তার জীবনের অন্যতম সফলতা।

নবী মুহাম্মদ এর কন্যা- সৈয়দা ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (জন্মঃ ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) নবী মুহাম্মাদ এবং তার প্রথম স্ত্রী খাদিজার কন্যা। নবী মোহাম্মদ মদিনায় হিজরতের পর তিনি মুহাম্মাদের চাচাত ভাই আলি ইবন আবি তালিব এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চারটি সন্তান হয়। তার পিতা মুহাম্মাদ এর পরলোকগমনের কয়েক মাস পরেই তিনি পরলোকগমন করেন।

নবী মুহাম্মদের মেয়ের জামাই এবং চাচাতো ভাই- হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (জন্মঃ ৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ)

নবীর কন্যা ফাতিমা -এর বড় পুত্র- ইমাম হাসান ইবনে আলী (জন্মঃ ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৬৭০ খ্রিষ্টাব্দ) তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী ও নবী কন্যা ফাতিমা-এর পুত্র এবং নবী মুহাম্মদ -এর দৌহিত্র।

নবীর কন্যা ফাতিমা -এর ছোট পুত্র- ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (জন্মঃ ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ – ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী ও নবী কন্যা ফাতিমা-এর পুত্র এবং নবী মুহাম্মদ -এর দৌহিত্র।

প্রমাণিত সত্যি- মোহাম্মদী ইসলামের পাক পাঞ্জাতন -এর সমাপ্তি ঘটে রাসূলের মৃত্যুর ৪৮ বছরের মাতায়।

এজিদি ইসলামের চার খলিফা গং-
এজিদি ইসলামের প্রথম খলিফা- আবু বকর (৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দ – ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ) নবী মুহাম্মদ এর একজন প্রধান সাহাবি এবং ইসলামের প্রথম খলিফা। এছাড়া তিনি নবী মুহাম্মদ এর শ্বশুর ছিলেন।

এজিদি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা- উমর ইবনুল খাত্তাব (জন্ম ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যু ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা এবং প্রধান সাহাবীদের অন্যতম। হযরত আবু বকর এর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় খলীফা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

এজিদি ইসলামের তৃতীয় খলিফা- উসমান ইবন আফফান (জন্মঃ ৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ) ৬৪৪ থেকে ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

এজিদি ইসলামের চতুর্থ খলিফা- হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (জন্মঃ ৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ) ইসলামের শেষ নবী মুহাম্মদ এর চাচাতো ভাই এবং মেয়ের জামাই।

প্রমাণিত সত্যি- ইসলামের চার খলিফা -এর সমাপ্তি ঘটে রাসূলের মৃত্যুর ২৯ বছরের মাতায়।

এজিদি ইসলামের রচয়িতা গং-
সহীহ আল বুখারী- ইমাম বুখারী (জন্মঃ ৮১০ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ) অর্থাৎ নবী মোহাম্মদের মৃত্যুর- ১৭৮ বছর পরে তার জন্ম।

সহিহ মুসলিম- মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (জন্মঃ ৮১৫ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দ) অর্থাৎ নবী মোহাম্মদের মৃত্যুর- ১৮৩ বছর পরে তার জন্ম।

সুনান আন-নাসা- ইমাম আল-বায়হাকী (জন্মঃ ৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ১০৬৬ খ্রিষ্টাব্দ) অর্থাৎ নবী মোহাম্মদের মৃত্যুর- ৩৬২ বছর পরে তার জন্ম।

সুনান আবি দাউদ- ইমাম আবু দাউদ ( জন্মঃ ৮১৭ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দ) অর্থাৎ নবী মোহাম্মদের মৃত্যুর- ১৮৫ বছর পরে তার জন্ম।

জামি আত-তিরমিযী- মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি (জন্মঃ ৮২৫ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৮৯২ খ্রিষ্টাব্দ) অর্থাৎ নবী মোহাম্মদের মৃত্যুর- ১৯২ বছর পরে তার জন্ম।

সুনানে ইবনে মাজাহ- ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ (জন্মঃ ৮২৪ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যুঃ ৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দ) অর্থাৎ নবী মোহাম্মদের মৃত্যুর- ১৯৩ বছর পরে তার জন্ম।

সমীকরণঃ ধারাক্রমে এদের (হাদিস রচয়িতা) প্রত্যেকের জন্ম হয়েছে নবীর মৃত্যুর ১৭৮ থেকে ৩৬২ শত বছর পরে। ইসলামের পাক পাঞ্জাতন -এর সমাপ্তি ঘটে রাসূলের মৃত্যুর ৪৮ বছরের মাতায়। ধারাক্রমে এদের (হাদিস রচয়িতা) -এর, জন্ম ১৭৮ থেকে ৩৬২ শত বছর পর। অর্থাৎ ১৭৮-৪৮=১৩০ বছর। পাঞ্জাতন -এর সমাপ্তির ১৩০ শত বছর পর হাদিস রচয়িতা -এর, জন্ম সবেমাত্র শুরু… বাকীটা ইতিহাস…।

Scroll to Top