কিছু কিছু ছবি সত্যিকার অর্থেই আমার কাছে দুষ্প্রাপ্য বলে মনে হয়।

কিছু কিছু ছবি সত্যিকার অর্থেই আমার কাছে দুষ্প্রাপ্য বলে মনে হয়। এই ছবিটি আমার কাছে তেমনি একটি দুষ্প্রাপ্য ছবি। ছবিটির বিশেষ বৈশিষ্ট বঙ্গবন্ধু পার্কে বসে একাকী কারো সাথে গল্প করছেন। এমন ঘটনার আর কোন ছবি আছে কিনা আমার জানা নেই। সব সময় তিনি থাকতেন জনসাধারণ পরিবেষ্ঠিত অবস্থায়। সেদিক থেকে সত্যিকার অর্থেই ছবিটি দুস্প্রাপ্য এবং বিরল ঘটনার সাক্ষী।

ছবিতে বঙ্গবন্ধুর সাথে যাকে দেখা যাচ্ছে তার নাম সামসুর রহমান খান ডাকনাম জনসন। পেশায় ছিলেন সিভিল সার্ভিস অফ পাকিস্তান অর্থাৎ সি এস পি, র উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাচ – ১৯৫১। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর এমন একজন ঘনিষ্ট বন্ধু যার নাম এবং পরিচয় অনেকের ই অজ্ঞাত। চাকুরীরত অবস্থায় তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হন এবং তাকে অভিযুক্ত হিসেবে ০৬/০১/১৯৬৮ তারিখে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এক ই মামলায় বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন ১৮/০২/১৯৬৮ তারিখে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মোট আসামীর সংখ্যা ছিল ৩৫ জন। পরবর্তীতে উনসত্তুরের প্রবল গণ আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার ২২/০২/১৯৬৯ তারিখে সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২৩/০২/১৯৬৯ তারিখে রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় এই মামলায় মুক্তিপ্রাপ্ত সকল রাজবন্দীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এই জনসভাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে ” বঙ্গবন্ধু ” উপাধি দেয়া হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু সামসুর রহমান জনসন কে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন। সেখানে তিনি ১৭/০২/১৯৭২ থেকে ০৪/০৮/১৯৭৫ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ছবিটি ১৯৭২ সালের মার্চ মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে কোন এক সময় তোলা কারন এই সময় বঙ্গবন্ধু সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করেন। উল্লেখ্য আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় রহমানের নাম উল্লেখ রয়েছে, খান মোহাম্মদ সামসুর রহমান হিসেবে।

ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা – THE ASIAN AGE. তথ্যের জন্য কৃতজ্ঞতা – শোয়েব চৌধুরী। বাংলাদেশ দূতাবাস মস্কো এবং উইকিপিডিয়া।
Scroll to Top