জারজ সন্তান ছাড়া কেউ নবী-রাসূল ও অলী-আল্লাহর বিরোধিতা করে না।

“জারজ সন্তান ছাড়া কেউ নবী-রাসূল ও অলী-আল্লাহর বিরোধিতা করে না।”

দেওয়ানবাগী আমাদের জন্মের বৈধতা দিয়েছে। ছবি তোলা জায়েজ করেছেন কোরআন থেকে দলিল দিয়ে, তারপর সরকার আমাদেরকে আইডি কার্ড দিয়ে মাতৃ-পিতৃ পরিচয় দিয়েছে। তোমরা কিকরে সে দেওয়ানবাগীকে ভন্ড বলো?

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধাচরণ যারা করেছিল, তারা ছিলো কাফির, মুশরিক ও পাপিষ্ঠ মানুষ শয়তান। মহান আল্লাহ এ দুনিয়াতেই তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছেন।

কোরাইশ সর্দার অলীদ ইবনে মুগীরা হযরত রাসুল (সা.)-এর শানে একটি মিথ্যা কথা বলেছিল যে, মুহাম্মদ উম্মাদ। জবাবে মহান আল্লাহ তার দশটি দোষ প্রকাশ করে দেন।

এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ বলেন-
হে রাসুল (সা.) আপনি মিথ্যাবাদীদের কথায় কর্ণপাত করবেন না। তারা চায় যে, যদি আপনি শিথিল হন, তবে তারাও শিথিল হবে। আপনি এমন ব্যক্তির কথায় কর্ণপাত করবেন না,
যে কথায় কথায় কসম করে,
যে হীন প্রকৃতির,
যে পশ্চাতে খুব দুর্নাম রটনাকারী,
যে চোগলখুরী করে বেড়ায়,
যে নেক কাজে বাধা প্রদানকারী,
যে সীমালঙ্গনকারী,
যে মহাপাপী,
যে রুক্ষ স্বভাব,
এতদ্বতীত সে জারজ।

সূরা আল কলম ৬৮: আয়াত ৮ থেকে ১৩
বর্ণিত আছে- যখন এ আয়াতসমূহ অবর্তীর্ণ হলো, তখন অলীদ ইবনে মুগীরা গিয়ে তার মাকে বললো- মুহাম্মদ আমার সম্পর্কে দশটি দোষ উল্লেখ করেছেন। নয়টি তো আমি জানি, যেহেতু সে দোষগুলো আমার মধ্যে বিদ্যমান; কিন্তু দশম দোষটি, আর তা হলো- আমি জারজ সন্তান কিনা এটি আমার জানা নেই। আমার গর্ভধারিণী হিসেবে এটি কেবল তোমারই জানার কথা। হয়ত তুমি আমাকে এ সম্পর্কে সত্য বলবে, নতুবা আমি তোমার শিরচ্ছেদ করে ফেলবো। এর জবাবে অলীদের মা বলল- তোমার পিতা নপুংসক ছিলো। আমি আশঙ্কা করলাম, তার মৃত্যু ঘটবে, অতঃপর ধনসম্পদ অপর লোকেরা নিয়ে যাবে। তারপর আমি একজন রাখালকে ডেকে আনলাম। তুমি ঐ রাখালের ঔরস থেকেই জন্মলাভ করেছে।

(তাফসীরে কানযুল ঈমান ও খাযাইনুল আরফান, পৃষ্ঠা ১০১৮)

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন- আলা ইন্না আউলিয়াল্লাহি লা খাওফুন আলাইহিম ওয়ালা হুম ইয়াহঝানূন।

অর্থাৎ- জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। -সূরা-ইউনুস-১০: আয়াত-৬২

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন, হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ’তাআলা ফরমান-
মান আদালী ওয়ালিইয়্যান ফাক্বাদ বারাঝানী বিলহারব।

অর্থাৎ- যে ব্যক্তি আমার কোন অলী-বন্ধুর সাথে শত্রুতা করেছে, সে অবশ্যই আমার সাথে প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। -তাফসীরে রূহুল বয়ান-৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা-২০৮

 

 

Scroll to Top