পোস্টের ভুল ব্যাখ্যা, তসলিমা নাসরিনকে ‘মৃত’ ঘোষণা ফেসবুকের

পোস্টের ভুল ব্যাখ্যা, তসলিমা নাসরিনকে ‘মৃত’ ঘোষণা ফেসবুকের -জাহিদুল আলম রুবেল।
নামের আগে ‘রিমেম্বারিং’ দেখাচ্ছে লেখক তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক প্রোফাইলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার এক পোস্টের ভুল ব্যাখ্যা করে ফেসবুক তাকে ‘মৃত’ বলে মনে করছে। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি এখন ‘রিমেম্বারিং তসলিমা নাসরিন’ নামে দেখা যাচ্ছে।

এ ছাড়া লেখা হয়েছে, ‘আমরা আশা করি যারা তসলিমাকে ভালোবাসেন, যারা তসলিমাকে স্মরণ করতে চান তারা তার প্রোফাইলে গিয়ে সান্ত্বনা পাবেন।’

তসলিমা নাসরিন কীভাবে তার মৃত্যুকে পর্যবেক্ষণ করতে চান, সে বিষয়ে একটি পোস্ট প্রকাশের পর আজ তার অ্যাকাউন্টে এই পরিবর্তন দেখা গেছে।

ফেসবুক তার ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পরে সেটিকে স্মৃতির পাতায় পরিণত করতে ‘রিমেম্বারিং’ যোগ করেছে। বন্ধু, অনুসারী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা সেখানে ভার্চুয়ালি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

টাইমলাইনে তার পোস্টে তসলিমা লিখেছিলেন, ‘আমি চাই আমার মৃত্যুর খবর প্রচার হোক চারদিকে। প্রচার হোক যে আমি আমার মরণোত্তর দেহ দান করেছি হাসপাতালে, বিজ্ঞান গবেষণার কাজে। কিছু অঙ্গ প্রতিস্থাপনে কারও জীবন বাঁচুক। কারও চোখ আলো পাক। প্রচার হোক, কিছু মানুষও যেন প্রেরণা পায় মরণোত্তর দেহ দানে।’

‘অনেকে কবর হোক চান, পুড়ে যাক চান, কেউ কেউ চান তাঁদের শরীর পোড়া ছাই প্রিয় কোনও জায়গায় যেন ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ আশা করেন তাঁদের দেহ মমি করে রাখা হোক। কেউ আবার বরফে ডুবিয়ে রাখতে চান, যদি ভবিষ্যতে প্রাণ দেওয়ার পদ্ধতি আবিষ্কার হয়!’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘অসুখ বিসুখে আমি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করি এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত করবো। কোনও প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে আমার বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই, ঠিক যেমন বিশ্বাস নেই কোনও কুসংস্কারে। জীবনের একটি মুহূর্তেরও মূল্য অনেক। তাই কোনও মুহূর্তই হেলায় হারাতে চাই না। মরার পর আমরা কিন্তু কোথাও যাই না। পরকাল বলে কিছু নেই। পূনর্জন্ম বলে কিছু নেই। মৃত্যুতেই জীবনের সমাপ্তি। আমার জীবন আমি সারাজীবন অর্থপূর্ণ করতে চেয়েছি। মৃত্যুটাও চাই অর্থপূর্ণ হোক।’

তসলিমা পরে ফেসবুককে উদ্দেশ্য করে টুইট করেছেন, ‘আমি বেঁচে আছি। কিন্তু ফেসবুক আমার অ্যাকাউন্টকে রিমেম্বারিং করে রেখেছে। কী দুঃখের খবর! কীভাবে এটা করতে পারলে? দয়া করে আমাকে আমার অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দাও।’

Scroll to Top