সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজানের গৌরবময় জীবনী মোবারক

ইমাম ড. আরসাম কুদরত-এ-খোদা: পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ বলেন ‘‘আমি যাদের সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন একদল আছে, যাঁরা সত্য পথ দেখায় এবং সেই অনুযায়ী ন্যায় বিচার করে।” (সূরা আল আরাফ ৭: আয়াত ১৮১)। এই আয়াতের মাধ্যমে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মানুষের মাঝে দুটি সম্প্রদায় রয়েছে। একটি সম্প্রদায় হলো হেদায়েতকারী তথা মুর্শেদ, আর অন্যটি হেদায়েতপ্রার্থী।

নবুয়তের যুগে মুর্শেদ অর্থাৎ পথপ্রদর্শক হয়ে যাঁরা আগমন করেছেন, তাদেরকে নবি-রাসুল বলা হয়। নবুয়ত পরবর্তী বেলায়েতের যুগে যাঁরা মুর্শেদ হয়ে আগমন করেন তাঁদেরকে আওলিয়ায়ে কেরাম বলা হয়। এই প্রসঙ্গে হযরত রাসুল (সা.) ফরমান “শায়েখ (মোর্শেদ) তাঁর পরিবার তথা সম্প্রদায়ের মাঝে ঐরূপ, নবি তাঁর উম্মতের মাঝে যেরূপ।” (তাফসীরে মাজহারি ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৮)

মূলত মহান আল্লাহ্ তাঁর পরিচয় মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যে তাঁর বন্ধুদেরকে জগতের বুকে পাঠিয়ে থাকেন। সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত রাসুল (সা.)-কে প্রেরণের মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহ্ নবুয়ত যুগের পরিসমাপ্তি ঘটান। হযরত রাসুল (সা.) মানবজাতিকে আল্লাহ্ তায়ালার সুমহান শিক্ষা ও আদর্শ সংবলিত ‘মোহাম্মদী ইসলাম’ উপহার দিয়ে ১১ হিজরিতে ওফাৎ লাভ করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, ৬১ হিজরিতে হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন বিন আলী (রা.)-কে সপরিবারে কারবালার প্রান্তরে দুরাচার এজিদ বিন মুয়াবিয়া নির্মমভাবে শহিদ করে। এরপর থেকেই বিশ্বব্যাপী মোহাম্মদী ইসলামের পরিবর্তে এজিদি ইসলাম প্রচার ও প্রসার লাভ করে।

মহান আল্লাহ্ দয়া করে হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাতের ১৩১৭ বছর পর বেলায়েতের যুগের শ্রেষ্ঠ ইমাম সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানকে এই সুজলা সুফলা শস্য শ্যামল বাংলার বুকে প্রেরণ করেন। জগৎশ্রেষ্ঠ এই মহামানব এজিদি ইসলামের প্রকৃত মুখোশ উন্মোচন করে হযরত রাসুল (সা.)-এর চির শান্তির ধর্ম মোহাম্মদী ইসলামকে জগতের বুকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন। মহান আল্লাহর এই প্রিয় বন্ধুর গৌরবোজ্জ্বল জীবনী মোবারক নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ

বংশ পরিচয়: নবি-রাসুল ও আওলিয়ায়ে কেরামের গৌরবময় জীবন দর্শন গবেষণা করলে দেখা যায় যে, তাঁরা সমকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ বংশে ও গৌরবোজ্জ্বল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এর ফলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আল্লাহর বন্ধুগণ সকলের নিকট বিশেষ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার অধিকারী হয়ে থাকেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান হলেন হযরত রাসুল (সা.)-এর ২৩তম বংশধর। ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের ঊর্ধ্বতন ১৫তম পুরুষ হযরত সৈয়দ দোস্ত মাহমুদ সিপাহী (রহ.)।তুর্কী শাসকদের সাথে ভারতবর্ষে এসে বাংলাদেশে আগমন করেন এবং ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলাধীন বাহাদুরপুর গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। হযরত সৈয়দ দোস্ত মাহমুদ সিপাহী (রহ.)-থেকে শুরু করে বংশ পরম্পরায় সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের শ্রদ্ধেয় দাদাজান হযরত সৈয়দ আবদুর রফিক (রহ.) হলেন হযরত রাসুল (সা.)-এর বংশের ২১তম পুরুষ। হযরত সৈয়দ আবদুর রফিক (রহ.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট সুফিসাধক আলহাজ হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.), তিনি হলেন সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সৌভাগ্যবান পরম শ্রদ্ধেয় পিতা। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের মহীয়সী মাতা হলেন হযরত জোবেদা খাতুন (রহ.)। মাতৃকুল ও পিতৃকুল উভয় দিক থেকে অলী-আল্লাহ্গণের পবিত্র রক্তের স্রোতধারা সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজানের দেহ মোবারকে প্রবাহমান।

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের আবির্ভাবের পূর্বাভাস: মহান রাব্বুল আলামিন যখন তাঁর প্রিয় বন্ধুদেরকে জগতের বুকে প্রেরণ করেন, তখন তাঁদের শুভ জন্মের পূর্বাভাস হিসেবে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত করে থাকেন। ঐ সকল ঘটনা প্রমাণ করে যে, যিনি পৃথিবীতে আসবেন, তিনি সাধারণ কোনো মানুষ নন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের আগমনের পূর্বেও বহু অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়। তাঁর পিতা আলহাজ হযরত আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) ছিলেন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। ফলে ব্যবসায়িক কাজে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গমন করতেন। সেসময় বহু মাজ্জুব ও দেশরক্ষক অলী-আল্লাহর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। তাঁরা সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের পিতাকে প্রায়শই বলতেন, “সরকার সাহেব! আপনি হলেন একজন সৌভাগ্যবান পিতা। আপনার ঔরসে এমন একজন সন্তান জন্ম হবে, যাঁর মাধ্যমে পাপের আঁধারে নিমজ্জিত এই মানবজাতি হেদায়েতের আলোর পথের সন্ধান লাভ করবে।”

এছাড়া সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান যখন মাতৃগর্ভে, তখন তাঁর মহীয়সী মাতা হযরত সৈয়দা জোবেদা খাতুন (রহ.) বিভিন্ন স্বপ্ন ও ঘটনার মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে, তাঁর গর্ভের শিশু সন্তানটি মানবজাতির জন্য বরকতময় হিসেবে এই ধুলির ধরায় আসবেন। একদা তিনি শেষ রাতে রহমতের সময় তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের জন্য অজু করতে যখন ঘর থেকে বাহিরে পা বাড়ালেন, তখন তিনি লক্ষ্য করলেন আকাশে নতুন একটি তারা উদয় হয়েছে। আর সেই তারাটিকে কেন্দ্র করে সমগ্র আকাশ জুড়ে অসংখ্য তারার মেলা বসেছে। নতুন তারাটি ভূপৃষ্ঠের এতো কাছাকাছি মনে হচ্ছিল যে, তারাটি যেন কিছু বলার জন্য এগিয়ে এসেছে এবং অন্যান্য তারা স্বীয় আলোকরশ্মি দিয়ে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সম্মানিত মাতাকে অভিবাদন জানাচ্ছে। এই দৃশ্যটি অবলোকন করে হযরত সৈয়দা জোবেদা খাতুন (রহ.) বুঝতে পারলেন যে, তাঁর গর্ভের শিশু সন্তানটি জগতবাসীর জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে আগমন করবেন।

ধুলির ধরায় সূফী সম্রাট: সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের জন্মের পূর্ব রাতে তাঁর মাতা হযরত জোবেদা খাতুন (রহ.) স্বপ্নে দেখেন “আকাশে ঈদের চাঁদ উদিত হয়েছে। গ্রামবাসী সকলে ঘর থেকে বের হয়ে মহানন্দে ঈদের চাঁদ দেখছেন। ঐ চাঁদ দেখার জন্য তিনিও ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন। যখনই তিনি অপলক দৃষ্টিতে চাঁদের দিকে তাকালেন, সাথে সাথে আকাশের চাঁদটি তাঁর কোলে নেমে আসে। তিনি ঈদের চাঁদ কোলে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান।” এরপর তাঁর ঘুম ভেঙ্গে যায়। তিনি বুঝতে পারলেন, তাঁর পরম কাঙ্ক্ষিত সৌভাগ্যবান সন্তানটির জগতের বুকে আসার সময় হয়ে গেছে। সেদিনই সকাল ১০টায় মহান রাব্বুল আলামিনের অপার দয়ায় যুগের শ্রেষ্ঠ ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের আপন পিত্রালয়ে জগতের বুকে তাশরিফ আনেন। সেদিন ছিল বুধবার, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ; ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ সাল। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের অগ্রজ ৫ ভাই ও অনুজ ২ বোন, অর্থাৎ আলহাজ হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) ও হযরত সৈয়দা জোবেদা খাতুন (রহ.)-এর ৬ পুত্র সন্তান ও ২ কন্যা সন্তান।

আকিকা ও নামকরণ: সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের জন্মের ৭ম দিবসে তাঁর পরম শ্রদ্ধেয় দাদাজান হযরত সৈয়দ আবদুর রফিক (রহ.) প্রিয় নাতির আকিকার অনুষ্ঠান মহা ধুমধামের সাথে আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই লক্ষ্যে তিনি আকিকার অনুষ্ঠানের আগের দিন এক ওয়াজ মাহ্ফিলের আয়োজন করেন। মাহ্ফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন এই উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম ফখরে বাংলা মাওলানা তাজুল ইসলাম সাহেব। আসর নামাজের পর থেকে মাহ্ফিল শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। পরদিন সকালে মহা ধুমধামের সাথে আকিকার অনুষ্ঠান শুরু হয়। এই সময় হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) বাড়ির অন্দর মহল থেকে তাঁর নবজাত পুত্র সূফী সম্রাটকে কোলে করে বাড়ির মেহমান খানায় নিয়ে আসেন। মাওলানা তাজুল ইসলাম সাহেব অপূর্ব সুন্দর জ্যোতির্ময় শিশুটিকে দেখে সাথে সাথে কোলে তুলে নিলেন এবং আনন্দের সাথে বলে উঠলেন, “মাশাআল্লাহ্! মাশাআল্লাহ্! খুব সুন্দর শিশু তো! সরকার সাহেব আপনার প্রশংসা না করে উপায় নেই। কারণ সত্যিই আপনি একজন সৌভাগ্যবান পিতা। আমি দোয়া করি, আপনার এই সন্তান যেন আল্লাহর প্রিয় পাত্র হয়।” অতঃপর হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) মাওলানা তাজুল ইসলাম সাহেবকে নবজাত পুত্রের নাম রাখার জন্য অনুরোধ করেন। মাওলানা তাজুল ইসলাম সাহেব কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন “আপনার এই পুত্রের নাম রাখলাম ‘মাহ্বুব-এ-খোদা’ অর্থাৎ খোদার প্রিয়। সত্যিই অসাধারণ চারিত্রিক গুণাবলি ও মাধুর্যের কারণে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের জীবনে এই নামের সার্থকতা প্রকাশ পায়। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের শুভ জন্মের পর তাঁর পিতা হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) ব্যবসায় প্রচুর লাভ করেন, যা পূর্বের বছরগুলো থেকে ছিল সর্বাপেক্ষা বেশি। সেই লাভের টাকা দিয়ে তিনি অনেক জমি ক্রয় করেন এবং গরিব দুঃখী মানুষকে সহায়তা করেন।

শিক্ষা জীবন: সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান মাত্র ৩ বছর বয়সে বাড়ির মক্তবে পবিত্র কুরআন শিক্ষার চর্চা শুরু করেন। অসাধারণ স্মরণশক্তি, সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর ও অদম্য স্পৃহার কারণে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই শিশু সূফী সম্রাট কায়েদা, আমপাড়া-সহ পবিত্র কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন। এই অল্প বয়সেই তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়ে বহু আরবি, ফারসি ও উর্দু বয়াত মুখস্থ করেন। অতঃপর ৫ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রাম সোহাগপুর প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন। কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে নায়েবে রাসুল হওয়ার দীপ্ত বাসনা নিয়ে তিনি আরবি ও ইসলামিক বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য তদানীন্তন বিখ্যাত তালশহর করিমিয়া আলীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। তিনি শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরে অসাধারণ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি বৃত্তি সহকারে মাদ্রাসা শিক্ষার কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন। একজন মেধাবী, উদারমনা ও পরোপকারী হিসেবে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ছাত্র-শিক্ষক সকলের নিকট আস্থা ও বিশ্বস্ততার এক মূর্ত প্রতীক ছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও আকর্ষণীয় নেতৃত্বের কারণে ছাত্র জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি মাদ্রাসা ছাত্র সংসদের ভিপি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে আছে। বাঙালি জাতির চরম সংকটময় মুহূর্তে তৎকালীন আলেম সমাজের বেশিরভাগ যখন নির্লজ্জভাবে পশ্চিম পাকিস্তানিদের পক্ষ নিলো, ঠিক তখনই দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য মাত্র ২২ বছরের তরুণ আলেম সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন পাক হানাদার বাহিনীর উপর। তিনি ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল, রবিবার ৭২জন সঙ্গী নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থাপিত বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম কয়েক মাস তিনি প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে ৩নং সেক্টর ও ‘এস’ ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ভারতের হেজামারায় অবস্থিত ৩নং সেক্টর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সেসময় তিনি ভারতে দুটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হেজামারা ক্যাম্পে ১৯ নভেম্বর ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেন। সেদিন তিনি সমবেত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন ‘‘আপনারা সাক্ষী থাকুন। আল্লাহর কসম! আগামী বকরা ঈদের আগে দেশ স্বাধীন হবে। আমি আপনাদের নিয়ে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করব।’’ মহান আল্লাহর অপার দয়ায় তাঁর পবিত্র মুখ থেকে উৎসারিত এই ঐতিহাসিক ভবিষ্যদ্বাণীর মাত্র ২৭ দিন পর, ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে চুড়ান্ত বিজয় লাভ করে, পরবর্তীতে তিনি ১৯৭২ সালের ঢাকার তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের প্রদত্ত মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী এবং তা বাস্তবায়নের ঘটনাটি পরবর্তীতে বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধারা তাদের লিখিত গ্রন্থ ও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন।

সাধনা জীবন ও প্রাপ্ত লকবসমূহ: স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান নবগঠিত ১৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টের ধর্মীয় শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তদানীন্তন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্টে ধর্মীয় শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী আলেমগণের মধ্যে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয়। সেসময় তিনি পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরীফের গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন এবং নিয়মিত তাফসির মাহ্ফিল করে একজন প্রজ্ঞাবান মুফাস্সিরে কুরআন হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন।

১৯৭৪ সালে তিনি জয়দেবপুরের শহর কুতুবের মাধ্যমে তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ অলী-আল্লাহ্ ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.)-এর পরিচয় লাভ করেন এবং তাঁর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ৩ ফেব্রুয়ারী, রবিবার বাৎসরিক ওরশ শরিফে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়ায় তাঁর মুর্শেদের দরবারে গমন করেন। সেসময় ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.) প্রথম দর্শনেই বুঝতে পারেন যে, সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানই তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি, যাঁর প্রতীক্ষায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন। তাই ইমাম হুজুর তাঁর পরম কাঙ্ক্ষিত এই মহামানবকে কাছে রাখার অভিপ্রায়ে ১৯৭৪ সালের ১৬ মার্চ নিজ ৪র্থ কন্যা কুতুবুল আকতাব সৈয়দা হামিদা বেগম (রহ.)-কে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সাথে বিবাহ দেন। অতঃপর ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সূফী সম্রাট তাঁর মুর্শেদ ইমাম হুজুরের নির্দেশে সেনাবাহিনীর চাকরি ইস্তফা দিয়ে আপন মুর্শেদের দরবার শরীফে চলে আসেন। ইমাম হুজুর তাঁর তরিকা প্রচার ও দরবার শরীফ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে সূফী সম্রাটকে ‘প্রধান খলিফা’ নিযুক্ত করেন। সেসময় সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান গভীর সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং আধ্যাত্মিক জগতের উচ্চতর মাকাম হাসিল করেন। চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের প্রধান খলিফা ও ওলামা মিশনের প্রধান হিসেবে তরিকা প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ওয়াজ মাহ্ফিল করেন, সেসময় সেখানে প্রায়ই নানা অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হতো। তাঁর বক্তব্যের সময় অবারিত ফায়েজ বর্ষিত হতো। তাঁর আলোচনা মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতেন এবং দলে দলে তরিকা গ্রহণ করতেন। এমনকি বহু অমুসলিম তাঁর সাহচর্যে এসে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজানের ইসলাম ধর্মে প্রবিষ্ট কুসংস্কার দূর করে ধর্ম পালনের সঠিক পথনির্দেশনা দিতে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ সালে পরম করুণাময় রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে জামানার মোজাদ্দেদ বা সংস্কারকের সুমহান দায়িত্ব লাভ করেন। ১০ মহররম, পবিত্র আশুরার দিবস, ১৯৮৮ সালে তিনি যুগের ইমামের দায়িত্ব লাভ করেন। ৫ এপ্রিল, ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানকে ‘মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী’ খেতাবে ভূষিত করেন। অতঃপর ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে তিনি সকল ধর্মাবলম্বীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে, হযরত ইব্রাহীম (আ.) কর্তৃক সকল আম্বিয়ায়ে কেরামের ধর্মের দায়িত্ব ও বেলায়েত প্রাপ্ত হন।
পরিশেষে মহান আল্লাহর প্রকৃত স্বরূপ ‘তিনি নিরাকার নন, তাঁর নুরের রূপ আছে’ এই মহাসত্যটি পবিত্র কুরআন ও মারফু হাদিসের আলোকে মানবজাতির নিকট প্রকাশ করার পুরস্কারস্বরূপ মহান রাব্বুল আলামিন ১০ অক্টোবর, ২০০৮ সাল থেকে অদ্যাবধি পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি দেখিয়ে যাচ্ছেন।

সৃজনশীল ও মানবিক কর্মকান্ড: বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান তাঁর বর্ণাঢ্য গৌরবময় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল অবদান রেখে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়ায় ১৯৮০ সালে একটি মাদ্রাসা ও একটি এতিমখানা এবং ১৯৮২ সালে একটি হাই স্কুল, একটি হাসপাতাল ও একটি ডাকঘর প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বছরই তিনি চন্দ্রপাড়ায় মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন করে, সেখানে বিদ্যুতায়নের সুব্যবস্থা করেন। তিনি ইসলামী গবেষণার লক্ষ্যে ঢাকায় ১৯৮৩ সালে সুলতানিয়া মোজাদ্দেদিয়া গবেষণাগার, ১৯৯২ সালে সূফী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ১৯৯৮ সালে আল কুরআন গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা: কুল-কায়েনাতের রহমত হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর রেখে যাওয়া শান্তি ও মুক্তির ধর্ম মোহাম্মদী ইসলামের আদর্শ বিশ্বময় প্রচারের লক্ষ্যে যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের বিশ্বখ্যাত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ‘দেওয়ানবাগ শরীফ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই দেওয়ানবাগ শরীফের অধীনে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা প্রচারের জন্য তিনি সর্বমোট ১১টি দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বপ্রথম তিনি রাজধানী ঢাকার ১৫৪ আরামবাগে ১৯৮৫ সালে মোহাম্মদী ইসলামের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ঐ বছরই তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওয়ানবাগে ‘বাবে জান্নাত’ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের কমলাপুরে ১৯৮৭ সালে ‘বাবে মদীনা’ প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর ১৪৭ আরামবাগে ১৯৯২ সালে ‘বাবে রহমত ভবন’ প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে তিনি ১৫৪ আরামবাগ থেকে মোহাম্মদী ইসলামের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুরে ১৯৯৫ সালে ‘বাবে নাজাত’, ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৯৯৮ সালে ‘বাবে বরকত’ প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর ক্রমবর্ধমান আশেকে রাসুলদের জোয়ারের সাথে সঙ্গতি বজায় রেখে ২০০৬ সালে চুয়াডাঙ্গায় ‘বাবে নিয়ামত’, ২০০৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বাবে মোর্শেদ’, ২০০৯ সালে ঢাকার মগবাজারে ‘বাবে ফেরদৌস’ এবং ২০১০ সালে চট্টগ্রামে ‘বাবে মাগফিরাত’ ও গাজীপুরে ‘বাবে জান্নাতুল মাওয়া’ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বশেষে তিনি ২০১১ সালে রাজশাহীতে ‘বাবে নূর’ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, জাপান, সুইডেন, ইতালি, গ্রিস, সাইপ্রাস, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর শতাধিক দেশে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শত শত খানকায়ে মাহ্বুবীয়া ও আশেকে রাসুল জাকের মজলিস প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তিনি বহির্বিশ্বে মোহাম্মদী ইসলামের সুমহান আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে World Ashek-e-Rasul Organization প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রণীত কিতাবসমূহ: সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান রচিত গবেষণামূলক গ্রন্থসমূহ হচ্ছে

১। তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (১ থেকে ৮ খণ্ড), ২। স্রষ্টার স্বরূপ উদ্ঘাটনে সূফী সম্রাট : আল্লাহ্কে সত্যিই কি দেখা যায় না? (বাংলা), Sufi Samrat Uncovers Actual Identity of Allah : Is Allah Not Really Seen? (ইংরেজি অনুবাদ), ৩। বিশ্বনবীর স্বরূপ উদ্ঘাটনে সূফী সম্রাট : রাসূল (সঃ) সত্যিই কি গরীব ছিলেন? (বাংলা), Sufi Samrat Uncovers Hidden Truth On Great Prophet : Was Muhammad (Sm) Really Poor? (ইংরেজি অনুবাদ), ৪। ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.) [জীবনীগ্রন্থ], ৫। এজিদের চক্রান্তে মোহাম্মদী ইসলাম, ৬। সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী ধর্মীয় সংস্কার-১ম ও ২য় খণ্ড, ৭। সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী অবদান : আল্লাহ্ কোন পথে?, ৮। আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজ পথ, ৯। মুক্তি কোন পথে?, ১০। শান্তি কোন পথে?, ১১। ঈদ সমস্যার সমাধান (বাংলা), Eid Moon Sighting Problem and Solution(ইংরেজি), ১২। ফেরকা সমস্যার সমাধান, ১৩। সন্তানের প্রতি মায়ের অধিকার, ১৪। কবর ও মাজার সম্পর্কে ইসলামের বিধান ও ১৫। মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফা (দৈনিক আমল)।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বিশ্বময় মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকাসমূহ হলো’ মাসিক আত্মার বাণী (প্রথম প্রকাশ ১৯৮১ খ্রি.), ইংরেজি সাপ্তাহিক The Weekly Chandrapara (১৯৮৩ খ্রি.), সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ (১৯৮৯ খ্রি.), দৈনিক ইনসানিয়াত (১৯৯১ খ্রি.), ইংরেজি সাপ্তাহিক Weekly The Message (১৯৯২ খ্রি.)।
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ধর্মের প্রবিষ্ট কুসংস্কার দূর করে এই সমস্ত বহু সংস্কার করেছেন। তাঁর অনেক সংস্কার রাষ্ট্রীয়ভাবে গৃহীত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে।

তাফসীর শরীফ প্রণয়নে হুজুর কেবলাজানের অবদান: তাফসীর প্রণেতা সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের অনবদ্য অবদান ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ আল্লাহর জাত-পাকের পরিচয়-১ম খণ্ড, এবং ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ আল্লাহর গুণবাচক নামের পরিচয়-২য় খণ্ড, ৩য় খণ্ড, ৪র্থ খণ্ড, ৫ম খণ্ড, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৭ম খণ্ড ও ৮ম খণ্ড’। এ তাফসীর শরীফ পৃথিবীর অতুলনীয় একমাত্র বিষয়ভিত্তিক তাফসীর, যে তাফসীর শরীফে মহান রাব্বুল আলামিনের জাত-পাক এবং তাঁর গুণের পরিচয় উপস্থাপিত হয়েছে। মু’মিন মুসলমানের মনের চির আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ্ সম্পর্কে জানা এবং তাঁর দিদার লাভ করা। সুতরাং সে মহান আল্লাহ্ দেখতে কেমন, তাঁর অপরূপ সুন্দর নুরের রূপের বর্ণনা সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান তাঁর তাফসীর শরীফের ১ম খণ্ডে উপস্থাপন করেছেন। এরই মধ্য দিয়ে তিনি জগতবাসীর সামনে মহান রাব্বুল আলামীনের পরিচয় প্রকাশে নবদিগন্তের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন। কেননা ইতঃপূর্বে পৃথিবীতে আল্লাহর জাত-পাকের পরিচয় সংবলিত তাফসীর কেউ লেখেননি। অর্থাৎ নুরময় সত্তা মহিমান্বিত আল্লাহর একত্ববাদের প্রমাণ, তাঁর চেহারা মোবারক, চক্ষু মোবারক, শ্রবণেন্দ্রিয় বা কান মোবারক, জবান মোবারক, হাত মোবারক, দেহ মোবারক, কদম মোবারক ও রূহ মোবারকের প্রমাণ দিয়ে আজ পর্যন্ত জগতে কোনো তাফসীর প্রণীত হয়নি। অতঃপর স্বরূপে বিদ্যমান নূরময় সত্তা আল্লাহ্কে যে এ দুনিয়াতে দেখা যায়, সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং কুরআন ও হাদিসের অকাট্য দলিল-প্রমাণ দ্বারা ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী-১ম খণ্ডে’ সেটি সুস্পষ্ট করেছেন। তারপর তিনি তাফসীর শরীফের ২য় খণ্ড থেকে ৮ম খণ্ড পর্যন্ত মহান রাব্বুল আলামিনের আসমাউল হুসনা তথা সুন্দর সুন্দর গুণবাচক নামসমূহের সূত্র ধরে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের গুণের বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। সুতরাং এটিই পৃথিবীর একমাত্র তাফসীর শরীফ, যে তাফসীর শরীফের ৮টি খণ্ড জুড়ে কেবলই দয়াময় আল্লাহর পরিচয় উপস্থাপিত হয়েছে। আর এ আট খণ্ড তাফসীর শরীফ, সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সুদীর্ঘ ৩৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।

মহাবিশ্বের মহান মালিক আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের পরিচয় সংবলিত তাফসীর রচনা করে তিনি সৃষ্টি জগতে এক অনবদ্য ইতিহাস রচনা করেছেন, যা মোহাম্মদী ইসলামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। মহাকালের ধারাবাহিকতায় অনাদি অনন্তকালজুড়ে এ তাফসীর শরীফ বিশ্বমানবতাকে আল্লাহর পরিচয় জানতে, এবং তাঁকে লাভ করতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের মোহাম্মদী ইসলামকে বিশ্বব্যাপী প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে ঘরে ঘরে আশেকে রাসুল সৃষ্টি করে, আল্লাহ্ তায়ালার মহান দ্বিন জগতের বুকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহ্ আমাদের প্রত্যেককে তাঁর এ মহিমান্বিত অলীবন্ধুর আনুগত্য করার মাধ্যমে হযরত রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলামের আলো দ্বারা নিজেদেরকে আলোকিত করার তৌফিক দান করুন। আমিন!

লেখক: পরিচালক, সমন্বয়ক ও সমস্যার ফয়সালাকারী, দেওয়ানবাগ শরীফ; সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

Scroll to Top