বান্ধার প্রতি আল্লাহ্‌র ভালবাসার ৬৩টি দলিল সহ পোস্ট করলাম

বান্ধার প্রতি আল্লাহ্‌র ভালবাসার ৬৩টি দলিল সহ পোস্ট করলাম-
মহান আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করার জন্য প্রেম-ভালবাসা দিয়ে সৃষ্টি করেননি। আমরা কৃতকর্মের জন্যই ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছি। -সূফী সম্রাট হযরত শাহ্ দেওয়ানবাগী (রহঃ)
 
ভালোবাসা মৌলিক মানবীয় গুণাবলির একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবীয় গুণাবলি বিকাশে ও উত্তম মনুষ্য চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন বা সুকর্ম বৃত্তি অর্জনের মূলেও রয়েছে বিশ্বাস, আশা ও ভালোবাসা। সৃষ্টিকুল কায়েনাত ভালোবাসার ফল।
 
হাদিসে কুদসিতে রয়েছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি ছিলাম গোপন ভান্ডার; ভালোবাসলাম প্রকাশ হতে, তাই সৃজন করলাম সমুদয় সৃষ্টি।
 
আল্লাহর কুদরতের জগতে ভালোবাসাই হলো প্রথম সম্পাদিত ক্রিয়া বা কর্ম।
 
এই ভালোবাসা পবিত্র কোরআনে ৭টি পর্বে ৬৩ বার উল্লেখ হয়েছে।
বিশ্বাসী বা মোমিনদের ভালোবাসা সম্পর্কে ১৪টি আয়াত রয়েছে।
কাফেরদের ভালোবাসা সম্পর্কে রয়েছে ১২টি আয়াত।
আল্লাহ ভালোবাসেন না প্রসঙ্গে আছে ১৫টি আয়াত।
আল্লাহ ভালোবাসেন প্রসঙ্গে আছে ৯টি আয়াত।
ভুল করে ভালোবাসা সম্পর্কে বিবৃত আছে ৩টি আয়াত।
ভালোবাসার অসার দাবি সম্পর্কে রয়েছে ১টি আয়াত।
ভালোবাসার অন্যান্য প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে ৬টি আয়াত।
 
বিশ্বাসী বা মোমিনদের ভালোবাসা- আল্লাহকে ভালোবাসার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ করতে হবে।
 
♿ যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার নবী (সা.)-এর অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন। (আলে ইমরান: ৩১)।
 
💖 ইমানকে ভালোবাসা ও কুফরকে ঘৃণা করতে হবে। (হুজুরাত: ৭)।
💖 প্রভুর জিকরের ভালোবাসা মোমিনের হৃদয়ে থাকবে। (ছদ: ৩২)।
💖 ধ্বংসশীলদের ভালো না বাসাই যৌক্তিক। (আনআম: ৭৬)।
💖 ভালোবাসার জিনিস ব্যয় (দান) করা প্রকৃত কল্যাণ লাভের উপায়। (আলে ইমরান: ৯২)।
💖 আল্লাহর ভালোবাসায় দান করা মোমিনের পরিচয়। (বাকারা: ১৭৭)।
💖 আল্লাহর ক্ষমাকে ভালোবাসা বিশ্বাসীদের কাজ। (নূর: ২২)।
💖 বিজয়কে ভালোবাসা মানব স্বভাব। (ছফ: ১৩)।
 
তোমরা তাদের (অবিশ্বাসী ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের) ভালোবাসো কিন্তু তারা তোমাদের ভালোবাসে না। আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা (মোমিনরা) আল্লাহকে ভালবাসে। (মায়িদা: ৫৪)।
 
💖 মোমিনগণ আল্লাহকে কঠিন ভালোবাসেন। (বাকারা: ১৬৫)।
💖 তাঁরা (মোমিনরা) মুহাজিরদের ভালোবাসেন। (হাসর: ৯)।
💖 হাজতবাসকে আমি (ইউসুফ আঃ) মন্দ কাজ অপেক্ষা ভালোবাসি। (ইউসুফ: ৩৩)।
💖 ভালোবাসলেই হিদায়াত দেওয়া যায় না। (কছছ: ৫৬)।
 
অবিশ্বাসী ও অকৃতজ্ঞদের ভালোবাসা-
💔 অকৃতজ্ঞ ও অবিশ্বাসীরা ইমানের চেয়ে কুফরকে বেশি ভালোবাসে। (তাওবা: ২৩)।
💔 অবিশ্বাসীরা দুনিয়াকে ভালোবাসে। (আলে ইমরান: ১৫২)।
💔 অকৃতজ্ঞরা দুনিয়ার জীবনকে ভালোবাসে। (নাহল: ১০৭)।
💔 অবিশ্বাসীরা নগদকে ভালোবাসে। (কিয়ামাত: ২০-২১; দাহর: ২৭)।
💔 আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসার চেয়ে অন্য কিছুকে ভালোবাসা মুনাফিকদের স্বভাব। (তাওবা: ২৪)।
💔 হিদায়াতের চেয়ে অন্ধত্বকে ভালোবাসে সংশয়বাদীরা। (হামিম সাজদা: ১৭)।
💔 সম্পদকে ভালোবাসে বোকারা। (ফাজর: ২০)।
💔 সম্পদের কঠিন ভালোবাসা নির্বোধদের কাজ। (আদিয়াত: ৮)।
💔 তোমরা (অশান্তিকারীরা) কল্যাণকামীদের ভালোবাসো না। (আরাফ: ৭৯)।
💔 অহংকারীরা কাজ না করেই প্রশংসা পেতে ভালোবাসে। (আলে ইমরান: ১৮৮)।
💔 যারা অশ্লীলতা প্রকাশে ভালোবাসে, তারা বিপথগামী। (নূর: ১৯)।
💔 কামনার ভালোবাসা পাপের কারণ। (আলে ইমরান: ১৪)।
 
💔 আল্লাহ তাআলা যা ভালোবাসেন না কাকে❓
💔 আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না। বাকারা: ১৯০।
💔 আল্লাহ অবিশ্বাসী পাপীদের ভালোবাসেন না। (বাকারা: ২৭৬)।
💔 আল্লাহ অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের ভালোবাসেন না। আলে ইমরান: ৩২
💔 আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না। আলে ইমরান: ৫৭ ও ১৪০; শুরা: ৪০
💔 আল্লাহ গর্বিত উত্ফুল্লকারীদের ভালোবাসেন না। (কছছ: ৭৬)।
💔 আল্লাহ গর্বকারীদের ভালোবাসেন না। (নিসা: ৩৬; লুকমান: ১৮; হাদীদ: ২৩)।
💔 আল্লাহ অহংকারীদের ভালোবাসেন না। (নাহল: ২৩)।
💔 আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালোবাসেন না। (আনআম: ১৪১; আরাফ: ৩১)।
💔 আল্লাহ আমানতের খেয়ানতকারীদের ভালোবাসেন না। (আনফাল: ৫৮)।
💔 আল্লাহ খেয়ানতকারী পাপীদের ভালোবাসেন না। (নিসা: ১০৭)।
💔 আল্লাহ খেয়ানতকারী কাফেরদের ভালোবাসেন না। (হাজ: ৩৮)।
💔 আল্লাহ কথায় (ভাষায়) মন্দ প্রকাশ করা ভালোবাসেন না। (নিসা: ১৪৮)।
💔 আল্লাহ ফ্যাসাদ বিপর্যয় ভালোবাসেন না। (বাকারা: ২০৫)।
💔 আল্লাহ ফ্যাসাদকারীদের (বিশৃঙ্খলাকারীদের) ভালোবাসেন না। (মায়িদা: ৬৪; কছছ: ১২)।
 
কারও অগোচরে তার দোষ চর্চা কোরো না; পশ্চাতে নিন্দা করা আপন ভাইয়ের লাশের মাংস ভক্ষণ করার সমতুল্য। গিবতকারীরা বা পরনিন্দাকারীরা মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া ভালোবাসো কি? (হুজুরাত: ১২)
 
আল্লাহ যা ভালোবাসেন-
💖 আল্লাহ সৎ কর্মশীলদের ভালোবাসেন। বাকারা: ১৯৫; আলে ইমরান: ১৩৪ ও ১৪৮; মায়িদা: ১৩ ও ৯৩।
💖 আল্লাহ পবিত্রদের ভালোবাসেন। (তাওবা: ১০৮)।
💖 আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। (বাকারা: ২২২)।
💖 আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন। (আলে ইমরান: ৭৬; তাওবা: ৪ ও ৭)।
💖 আল্লাহ ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের ভালোবাসেন। (আলে ইমরান: ১৪৬)।
💖 আল্লাহ (তাঁর ওপর) নির্ভরকারীদের ভালোবাসেন। (আলে ইমরান: ১৫৯)।
💖 আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠদের ভালোবাসেন। (মায়িদা: ৪২; হুজুরাত: ৯; মুমতাহিনা: ৮)।
💖 আল্লাহ মুজাহিদদের ভালোবাসেন। (ছফ: ৪)।
💖 আমি (আল্লাহ) তার মাঝে ভালোবাসা দিয়েছি। (তহা: ৩৯)।
 
💔 ভালোবাসার ভুলভ্রান্তি- কল্যাণকর বস্তু নয়, বরং অকল্যাণকর বস্তুকে ভালোবাসো (ভ্রান্তি)। (বাকারা: ২১৬)।
💔 অন্যায় ভালোবাসায় প্ররোচনা। (বিভ্রান্তি উদ্রেককারী) (ইউসুফ: ৩০)।
💔 ভালোবাসার কারণে প্রতিহিংসা করা ও প্রতিশোধ গ্রহণ করা অন্যায়। (ইউসুফ: ৮)।
 
ভালোবাসার অসার দাবি- অকৃতজ্ঞ অবিশ্বাসী কাফিররা বলে, ‘আমরা আল্লাহর ভালোবাসার পাত্র। (মায়িদা: ১৮)।
 
প্রকৃত ভালোবাসার দাবি হলো বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা। সবর ও শোকর তথা ধৈর্য ও কৃতার্থতা।
 
ভালোবাসার নানা প্রসঙ্গ-
🌟 ইমান বা বিশ্বাস ভালোবাসার বীজ। (ইয়াসিন: ৩৩)।
🌟 ইমান, বিশ্বাস ও ভালোবাসার বীজ রয়েছে সুউজ্জ্বল গ্রন্থে। (আনআম: ৫৯)।
🌟 ভালোবাসার (বিন্দু) সরিষা দানাসম তা অঙ্কুরিত ও বিকশিত হয় (আম্বিয়া: ৪৭)।
 
তিনি (আল্লাহ) বিশ্বাস ও ভালোবাসার অঙ্কুরোদ্গম ঘটান- আনআম: ৯৫; নাবা: ১৪ ও ১৬; কাফ: ৯; আবাছা: ২৫-২৭)।
 
💙 তিনি (আল্লাহ) ভালোবাসার বীজকে (বিশ্বাস ও ভালোবাসায় সিক্ত আমলকে) সপ্ত শতক প্রবৃদ্ধি ঘটান। (বাকারা: ২৬১)।
💙 খোসাযুক্ত (অন্তরে) ভালোবাসা ও উন্মুক্ত (প্রকাশ্যে) ভালোবাসা (সৃষ্টির ভেদ রহস্য)। (আর রহমান: ১২; আনআম: ৯৯)।
 
💚 হাদিস শরিফে ভালোবাসা-
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: ‘তোমাদের কেহ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মোমিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার সন্তান অপেক্ষা, তার পিতা অপেক্ষা এবং সব মানুষ অপেক্ষা বেশি প্রিয় (ভালোবাসার বস্তু) না হই।’ (বুখারি শরিফ)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন: ‘যে যাকে ভালোবাসে সে (পরকালে) তার সঙ্গে থাকবে (মুসলিম শরিফ)।’ হাদিসে আরও রয়েছে: ‘যে আমার সুন্নতকে ভালোবাসে সে অবশ্যই আমাকে ভালোবাসে, আর যে আমাকে ভালোবাসে সে জান্নাতে আমার সঙ্গেই থাকবে (নাসায়ি শরিফ)।’ নবীজি (সা.) বলেন: ‘সর্বোত্তম আমল হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা। (আবু দাউদ শরিফ)
 
হজরত রাসূল (সঃ) এর প্রদান শিক্ষা কি, কি❓
১। আত্ম কি❓
২। দিল কি❔
৩। নামাজে কি❓
৪। আশেকে রাসূল হওয়া কি❓
 
ব্যাখ্যা সরূপ তুলে দরে গিয়েছেন যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত শাহ্ দেওয়ানবাগী (রহঃ) হুজুর কেবলাজান।
 
মহান সংস্কারক, মােহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহঃ) হুজুর কেবলাজান কুল-কায়েনাতের রহমত, বিশ্বনবী হযরত মােহাম্মদ (সাঃ)-এর রেখে যাওয়া শান্তির ধর্ম মােহাম্মদী ইসলাম প্রচার করে গিয়েছেন যে মােহাম্মদী ইসলামের প্রধান শিক্ষা চারটি। ♿ যথা-
১। আত্মশুদ্ধি,__________________________💖
২। দিল জিন্দা,_________________________ 💓
৩। নামাজে হুজুরী ______________________🛐
৪। আশেকে রাসুল হওয়া_________________🙋‍♂️
 
১। আত্মশুদ্ধি: আত্ম অর্থ নিজ, নফ্স তথা জীবাত্মা। আর শুদ্ধি অর্থ পবিত্রকরণ। সুতরাং আত্মশুদ্ধি অর্থ নিজের নফস বা জীবাত্মাকে পরিশুদ্ধ করা, অর্থাৎ আত্মশুদ্ধির মর্ম হচ্ছে নিজের নফ্সকে ষড়রিপুর বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা। ♿ মহান আল্লাহ নিজেই বলেন-
قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّى
 
অর্থাৎ: নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে আত্মশুদ্ধি লাভ করে। (সূরা-আল আ’লা-৮৭: আয়াত-১৪)
 
এমনিভাবে অশেষ দয়াময় আল্লাহ্ ওহীর বাণী আল কুরআনের অন্য আয়াতে এরশাদ করেন-
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
 
অর্থাৎ: অবশ্যই সফলকাম হয়েছে সে ব্যক্তি, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর ব্যর্থ হয়েছে সে ব্যক্তি, যে নিজেকে পাপাচারে কলুসিত করেছে। (সূরা-আশ শামস-৯১ : আয়াত-৯ ও ১০)।
 
কুল-কায়েনাতের রহমত বিশ্বনবী হযরত মােহাম্মদ (সাঃ) বর্বর আরবজাতিকে আত্মশুদ্ধির এ সুমহান শিক্ষা দিয়েই আদর্শ চরিত্রবান রূপে গড়ে তােলেন এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য অনুসরণীয়, পরিশুদ্ধ এক মানব সভ্যতা বিনির্মাণ করেন। এজন্য যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলাজানের প্রধান চারটি শিক্ষার মধ্যে প্রথম শিক্ষাই হলাে আত্মশুদ্ধি।
 
২। দিল জিন্দা: দিল অর্থ হৃদয়। পবিত্র কুরআনে হৃদয়কে ক্বালব বলা হয়েছে। আর জিন্দা অর্থ জীবিত। অর্থাৎ কালব বা হৃদয়ে আল্লাহর। জিকির জারি করার মধ্য দিয়ে দিল জিন্দা করা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে। এরশাদ হচ্ছে-
فَوَيْلٌ لِّلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكْرِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ
 
অর্থাৎ: দুর্ভোগ তাদের জন্য, যাদের কালব বা হৃদয় কঠোর, আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল বা বিমুখ। তারা রয়েছে প্রকাশ্য গােমরাহীতে। (সূরা-আঝ ঝুমার-৩৯ : আয়াত-২২)
 
এমনিভাবে মহিমান্বিত আল্লাহ ওহীর বাণী কুরআনের অন্য আয়াতে এরশাদ করেন-
الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
 
অর্থাৎ: যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর জিকিরে যাদের কৃালব প্রশান্তি লাভ করে; জেনে রেখাে আল্লাহর জিকিরেই কেবল কালব প্রশান্তি লাভ করে। (সূরা-আর রা’দ-১৩ : আয়াত-২৮)।
 
সুতরাং মহান আল্লাহর জিকির কালবে জারি করে মানুষ যেন সুস্পষ্ট গােমরাহী থেকে মুক্তি লাভ করে এবং কালবে নূরে ঈমান লাভ করে। ইসলামের শাস্তি যেন বাস্তবে হৃদয়ে উপলব্ধি করতে পারে। এ কারণে। সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেব্‌লাজান তার পবিত্র শাহাদত অঙ্গুলি মােবারকের স্পর্শে তরীকা গ্রহণকারী মানুষের কালবে “আল্লাহ’ শব্দের নূর বপন করে ক্বালব জিন্দা করে দেন।
 
৩। নামাজে হুজুরী : নামাজে হুজুরী অর্থ পরিপূর্ণ একাগ্রতার সাথে। নামাজ আদায় করে নামাজ কবুলিয়াতের ফায়োজ, রহমত ও বরকত লাভ করা। অর্থাৎ আমাদেরকে নামাজে এমনভাবে দাড়াতে হবে যে, পরম করুণাময় আল্লাহ আমাকে দেখছেন, আমি কি বলছি তিনি তা শুনছেন, সুতরাং মহান আল্লাহকে হাজির, নাজির, ওয়াহিদ জেনে একাগ্রতার সাথে তার সামনে উপস্থিত হওয়া এবং আল্লাহর নূরের কদম মােবারকে সিজদা করা। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেন-
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ
 
অর্থাৎ; অবশ্যই মু’মিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র, যারা অনর্থক বিষয় থেকে দূরে থাকে। (সূরা-আল মু’মিনূন-২৩ : আয়াত-১ থেকে ৩)
 
♿ অন্যত্র মহিমান্বিত আল্লাহ এরশাদ করেন-
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ
 
অর্থাৎ; নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় নামাজ অশীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণই শ্রেষ্ঠতর। (সূরা-আল আনকাবুত-২৯ : আয়াত-৪৫)
 
সেই সাথে হাদীস শরীফে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন-
لاصلوة الّا بحضور الْقلْب
 
অর্থাৎ; “হুজুরী দিল বিহনে নামাজ কবুল হয় না। [নুরুল-আসরার (নূর তত্ত্ব)-১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৫]
 
এজন্য সুফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) হুজুর কেব্লাজান নামাজে হুজুরী শিক্ষা দেন। এ মহামানবের শিক্ষা গ্রহণ করে নামাজ আদায় করলে দুনিয়ার চিন্তামুক্ত হয়ে খেয়াল ক্বালবে ডুবিয়ে আল্লাহর প্রেমে মশগুল অবস্থায় নামাজ আদায় করা যায়। আর এভাবে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারলে আত্মশুদ্ধি লাভ করা যায় এবং নামাজে মিরাজ তথা আল্লাহর দীদার লাভ হয়।
 
অতএব আত্মশুদ্ধি, দিল জিন্দা ও নামাজে হুজুরীর এ শিক্ষাই ছিলাে মুসলিম জাতির আদি পিতা বাবা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত মুসা (আঃ) সহ সকল আম্বিয়ায়ে কেরামের। যুগ পরিক্রমায় আল্লাহর মনােনীত মহামানবগণ নিজ নিজ অনুসারীদেরকে এ উত্তম শিক্ষা দিয়েই তাদেরকে চরিত্রবানরূপে গড়ে তুলেছেন। বিষয়টি অশেষ দয়াময় আল্লাহ স্বীয় পাক জবানেই সুস্পষ্ট করেছেন। ♿ এরশাদ হচ্ছে-
قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّى وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى إِنَّ هَذَا لَفِي الصُّحُفِ الْأُولَى صُحُفِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى
 
অর্থাৎ: নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে আত্মশুদ্ধি লাভ করে, এবং সে স্বীয় প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও নামাজ আদায় করে। বস্তুত তােমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাত বহু গুণে শ্রেয় ও চিরস্থায়ী। আর এটিই লিখিত রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে ইব্রাহীম। (আঃ) ও মুসা (আঃ)-এর ওহীর কিতাবসমূহে। (সূরা-আল আ’লা-৮৭ : | আয়াত-১৪ থেকে ১৯)
 
এ সুরা প্রসঙ্গে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন-
َلَمَّا نَزَلَت سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْاَعلى قَالَ: كُلُّهَا فِى صُحُفِ اِبْرَاهِيْمَ وَمُوْ سى
 
অর্থাৎ: যখন সূরা-আল আ’লা তথা ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা নাযিল হলাে, তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন- এই পুরাে সুরাটিই ইব্রাহীম (আঃ) ও মুসা (আঃ)-এর সহীফার মধ্যে ছিলাে। (তাফসীরে ইবনে কাছীর-৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭০৫)
 
সুতরাং সুফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলাজান মানুষকে যে আত্মশুদ্ধি, দিল জিন্দা, নামাজে হুজুরীর শিক্ষা দেন, এ শিক্ষাই ছিলাে আল্লাহর প্রেরিত সকল মহামানবের।
 
একইভাবে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহঃ ) হুজুর কেবলা জানের সর্বশেষ শিক্ষা হচ্ছে-
 
৪। আশেকে রাসুল হওয়া;
অর্থাৎ কুল-কায়েনাতের রহমত বিশ্বনবী হযরত মােহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রেম মানুষের হৃদয়ে সৃষ্টি করে দিয়ে তাদেরকে আশেকে রাসুল হিসেবে গড়ে তােলা।
 
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেন-
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
 
অর্থাৎ: হে মাহবুব (সাঃ)! আপনি বলে দিন, তােমরা যদি আল্লাহকে ভালােবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করাে । তাহলে আল্লাহ তােমাদের ভালােবাসবেন এবং তােমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। অবশ্যই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়াময়। (সূরা-আলে। ইমরান-৩ : আয়াত-৩১)
 
♿ আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন-
لا يومن احدكمْ حتّى اكوْن احبّ اليْه من وّالده وولده والنّاس احْمعين
 
অর্থাৎ: যে ব্যক্তি নিজের পিতামাতা, সন্তানসন্ততি ও অন্য সকল মানুষ অপেক্ষা আমাকে বেশি ভালাে না বাসবে, সে মুমিন হতে পারবে না। (বােখারী শরীফ-১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৭; এবং মুসলিম শরীফ-১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৪৯)
 
এজন্য সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহঃ) হুজুর কেবলাজান মানুষকে আশেকে রাসুল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন, যেন মানুষ সকল কিছু অপেক্ষা আল্লাহর রাসুল (সাঃ)-কে বেশি ভালােবেসে মুমিন হতে পারে। এ মহামানবের অনুসারীদের হযরত রাসুল (সাঃ)-এর উপর দৈনিক ৭২২ বার দরূদ শরীফ পাঠ করতে হয় এবং রহমতের (তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত) সময় ও সপ্তাহের সােমবার ও বুধবার বাদ মাগরিব মিলাদ শরীফ পাঠ করতে হয়। করে ক্বালব জিন্দা করে দেন।
 
👑 মারহাবা ইয়া সূফী সাম্রাট হজরত শাহ্ দেওয়ানবাগী রহঃ হুজুর কেবলাজান 💚
Scroll to Top