ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের মহাবিপ্লবী অনাথবন্ধু পাঁজা।

ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের মহাবিপ্লবী অনাথবন্ধু পাঁজা৷

একজন কিশোর বিপ্লবী, নাম অনাথবন্ধু পাঁজা৷ ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী ব্যক্তিত্ব৷ জন্ম ২৯শে অক্টোবর, ১৯১১; পশ্চিম মেদিনীপুরের জলবিন্দুতে৷ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু’র আদর্শ ও প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিপ্লবী চেতনা ধারণ করে যুক্ত হন ব্রিটিশবিরোধী ‘বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স’ সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠনে৷ সেখানে যুক্ত হয়ে পরিচয় হয় আর এক অন্যতম ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী ব্যক্তিত্ব কিশোর মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত’র সাথে। বয়সে চার বছরের ছোট মৃগেন্দ্রও টাউন স্কুলের ছাত্র৷ তাঁরা দুই বিপ্লবীই দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করে নেমেছে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে৷
১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ৷ মেদিনিপুর জেলার ইংরেজ শাসক বার্জকে হত্যার পরিকল্পনা করলো বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স৷ দায়িত্ব পড়ল অনাথবন্ধু পাঁজা ও মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত’র উপর৷ কলকাতায় অস্ত্রশিক্ষা দিতে পাঠানো হল অনাথবন্ধু ও মৃগেন্দ্রনাথকে। ভালো করে অস্ত্রশিক্ষা সম্পন্ন করে রিভলভার নিয়ে ফিরে এলেন দুজন। লক্ষ্য বার্জকে হত্যা৷
১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২রা সেপ্টেম্বর। মেদিনীপুর পুলিশ গ্রাউন্ডে ফুটবল খেলা দেখতে হাজির হবেন বার্জ। রিভলভার লুকিয়ে সেই মাঠে হাজির হয়েছেন অনাথবন্ধু পাঁজা এবং মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত। একজনের বয়স ২২, আরেকজন সদ্য ১৮ পেরিয়েছে। হাতের আড়ালে লুকিয়ে রাখা পিস্তল নিয়ে মিশে আছেন ভিড়ের মধ্যে। বার্জ গাড়ি থেকে নেমে এগোলেন ময়দানের দিকে৷ সশস্ত্র পাহারা সমেত একপ্রকার নিশ্চিত হয়েই খেলা দেখছিলেন বার্জ।
হঠাৎই দর্শকাসন থেকে শোনা গেল বন্দুকের আওয়াজ। ঘাবড়ে গেল সবাই। দুই বিপ্লবীর পিস্তলের গুলিতে বার্জের পরনের পোশাক ভিজে গেছে রক্তে। মোক্ষম নিশানায় বিঁধেছে দুই বিপ্লবীর গুলি। লুটিয়ে পড়লেন মৃত বার্জ। আর পুলিশরা দেখল, দর্শকাসন থেকে এগিয়ে আসছে দুই তরুণ। হাতে উদ্যত রিভলভার৷ আবারও গর্জে উঠল অনাথবন্ধু ও মৃগেন্দ্রের বন্দুক। আহত হয়ে পড়ে গেলেন এক ইংরেজ ফুটবলার৷ অন্যদিকে পুলিশও তৈরি হয়ে গেছে। দুই পক্ষেই শুরু হল অসম লড়াই।
কিছুক্ষণ পরেই গরম সীসার গোলা এসে বিঁধল দুজনের শরীরে। দুই বীরের রক্তে লাল হয়ে উঠল মেদিনীপুর পুলিশ গ্রাউন্ড। তৎক্ষণাৎ মাতৃভূমিকে আঁকড়ে ধরে বিপ্লবী অগ্নিপুরুষ অনাথবন্ধু পাঁজা হাসিমুখে বরণ করে নিলেন মৃত্যুকে৷ এই মহাবীর দেশমাতৃকার জন্য উৎসর্গীত প্রাণ নিঃশেষে করলেন দান৷ অপর বন্ধু মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত বুলেটবিধ্বস্ত শরীর নিয়ে মৃত্যু শয্যায় প্রহর গুনতে গুনতে পরদিন ৩রা সেপ্টেম্বর বরণ করে নেয় মৃত্যুকে৷
Scroll to Top