হযরত শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের বিলাসবহুল জীবন!

হযরত শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের বিলাসবহুল জীবন!!

জাহিদুল আলম রুবেল: নিন্দুকেরা শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের বিরুদ্ধে নানারকম মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে সমাজের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং এখনো করেই যাচ্ছে। নানান অপপ্রচারের মধ্যে একটি হলো শাহ দেওয়ানবাগী হুজুর নাকি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন!

বিলাসবহুল জীবনযাপন কথাটিতে কিছুটা নেগেটিভ বিষয় জড়িত। অর্থাৎ অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক অর্থের জোরে দুনিয়াবি সকল সুবিধা ভোগ করে আরাম-আয়েশে জীবনযাপন করেন। সেই হিসাবে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের বিলাসবহুল জীবনযাপন কেমন ছিল?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার বাহাদুরপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের জন্ম। জন্মের সপ্তম দিনে আকিকার অনুষ্ঠান করা হয়। সেই আকিকার অনুষ্ঠানে তাশরীফ নিয়েছিলেন, ফখরে বাংলা মাওলানা তাজুল ইসলাম। যিনি মক্কা শরীফে ইমামতি করেন ৭/১২ বছর। ফখরে বাংলা মাওলানা তাজুল ইসলাম শিশু শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের নাম রাখেন মাহবুব-এ-খোদা যার অর্থ খোদার প্রিয়। এই মাহবুব-এ-খোদা নামের জন্যও কুটিল আলেমসমাজ শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের বিরুদ্ধে নিজেকে খোদা দাবি করেছেন বলে অপপ্রচার করেছেন। অথচ শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের যখন মাহবুব-এ-খোদা নাম রাখা হয় তিনি তখন সাতদিন বয়সের শিশু।

ছেলেবেলা হতে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন। মাদ্রাসায় পড়াশোনা চলাকালীন তিনি মাদ্রাসার ভিপি পদ অলঙ্কৃত করেন। ১৯৭১ ইং সালে মুক্তি যুদ্ধ শুরু হলে একজন মাদ্রাসা পাশ আলেম হয়েও স্রোতের বিপরীতে গিয়ে স্থানীয় কিছু যুবককে নিয়ে মুক্তি যুদ্ধে যোগদান করে ভারতের হেজামুড়া ক্যাম্পে অবস্থান করেন। ভারতের হেজামুড়া ক্যাম্প হতে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

মাদ্রাসা পাশ হয়েও স্রোতের বিপরীতে গিয়ে মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এজন্যই বললাম যে, এদেশের অধিকাংশ আলেমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সমর্থন করেছিলেন। এর কারণ পাকিস্থান মুসলিম দেশ আর মুক্তি যুদ্ধে বাংলাদেশের সহযোগী দেশ হলো ভারত। যেহেতু ভারত হিন্দু দেশ তাই হিন্দু দেশের সহযোগিতা নিয়ে মুসলিম দেশ পাকিস্তান হতে বাংলাদেশের আলাদা হয়ে যাওয়া আলেমরা মেনে নিতে পারেননি। কারণ এদের কাছে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধকে সমর্থন করার অর্থই হলো হিন্দু দেশের সহযোগিতাকে সমর্থন করা। সাম্প্রদায়িক শিক্ষার সূতিকাগার মাদ্রাসাগুলো হতে যে সাম্প্রদায়িক শিক্ষা আমাদের আলেমরা পেয়েছে, সেই সাম্প্রদায়িক শিক্ষার প্রভাবে এদেশের মাদ্রাসা পাশ আলেমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে না নিয়ে মুসলিম দেশ হিসাবে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। শুধু সমর্থনই নয় দেশের আলেমসমাজ ও তাদের ভাবশিষ্যরা সাম্প্রদায়িক শিক্ষার প্রভাবে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধকে অস্বীকার করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছে। পরবর্তীতে এরাই রাজাকার আলবদর নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

কিন্তু শাহ দেওয়ানবাগী হুজুর সাম্প্রদায়িক শিক্ষার সূতিকাগার মাদ্রাসায় পড়াশোনা করলেও মাদ্রাসার সাম্প্রদায়িকতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি বলেই তিনি আলেমসমাজের বিপরীতে গিয়ে শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেই সমর্থন করেননি, তিনি সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণও করেন। এজন্যই বলেছি তিনি স্রোতের বিপরীতে গিয়ে মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

সেক্টর কমান্ডারের অনুরোধে তিনি যুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশের আর্মির রিলিজিয়াস টিচার হিসাবে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। আর্মির রিলিজিয়াস টিচার হিসাবে চাকরি করা অবস্থায় শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের জীবনে কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটে যায়। সেই সূত্র ধরে তিনি তাঁর মোর্শেদ ইমাম শাহ চন্দ্রপুরী রহঃ এর কাছে বায়েত হন। এর কিছুদিন পরে ইমাম শাহ চন্দ্রপুরীর নির্দেশে সরকারি চাকরী ছেড়ে তিনি চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে যোগদান করেন। আরাম-আয়েশের সরকারি চাকরি ছেড়ে নিজ মোর্শেদের দরবারে গিয়ে মোর্শেদের নির্দেশে দরবার পরিচালনার পাশাপাশি কঠোর সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। এভাবে একযুগ অতিক্রান্ত হলে ইমাম শাহ চন্দ্রপুরী রহঃ পর্দা করেন। নিজ মোর্শেদের পর্দার পর শাহ দেওয়ানবাগী হুজুর চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে একবছর অবস্থান করার পর ঢাকায় চলে আসেন।

চতুর্দিকে এজিদের অনুসারীদের সংখ্যাধিক্যের মাঝে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল সাঃ এর প্রকৃত ধর্মের কথা বলা যে কত কঠিন কাজ তা যাঁরা এই দায়িত্ব পালন করেন তাঁরা জানেন। শত বাধা, বিরোধিতা, সমালোচনাকে পাশকাটিয়ে তিনি রাসুল সাঃ এর মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করতে শুরু করেন। মোহাম্মদী ইসলামের প্রচারের তাঁর অনুসারীর সংখ্যা যেমন বাড়তে থাকে তেমনি শত্রুর সংখ্যাটাও বাড়তে থাকে। শত্রুরা প্রকাশ্যে শত্রুতা করতে শুরু করে।

সম্ভবত ১৯৯০ ইং সালে এরশাদ সরকারের আমলে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের বিরুদ্ধে আলেমসমাজের বিরোধিতাকে পুঁজি করে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই প্রেসিডেন্ট এরশাদ শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পর্যায়ক্রমে অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছে আসে। শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরকে গ্রেফতারের দায়িত্ব যার উপরে এসেছে, তিনি ততদিনে নানান সমালোচনার কারণে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের প্রকাশিত বিভিন্ন কিতাব পড়ে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের প্রতি নিজের একটা স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছিল। তাই প্রেসিডেন্টের নির্দেশে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরকে গ্রেফতার না করেও কোন উপায় নেই দেখে তিনি শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের কাছে বলেন, হুজুর আপনি কিছুদিন আরামবাগ হতে সরে গিয়ে পালিয়ে থাকুন। উত্তরে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুর বলেছিলেন, ক্যালেণ্ডারে তারিখটি দাগ দিয়ে রাখেন। গ্রেপ্তার কে হয় আমি নাকি আপনার প্রেসিডেন্ট! যাঁদের নির্দেশে (আল্লাহ ও রাসুল সাঃ) তিনি ধর্মের কথা বলেন, কি হবে না হবে উনারাই ভাল বুঝবেন। আল্লাহ ও রাসুল সাঃ এর উপর এমন স্থির বিশ্বাস নিয়ে তিনি আরামবাগেই রয়ে গেলেন। পরবর্তী সময়ে এরশাদ সাহেব শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরকে গ্রেফতার আর কি করবেন, জনরোষে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ হতে পদত্যাগ করেন। প্রেসিডেন্ট পদ হতে সরে যাওয়ার পর তাকেই জেলে যেতে হয়।

একটা কথা বলে রাখি, প্রেসিডেন্ট এরশাদ হেলিকপ্টার করে আটরশিতে যাওয়ার কথা দেশের অনেক মানুষের জানার কথা। সেই প্রসিডেন্ট এরশাদ শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের কাছেও গিয়েছিলেন মুরিদ হওয়ার জন্য। কিন্তু শাহ দেওয়ানবাগী হুজুর পাপীতাপী অসংখ্য মানুষকে তরিকা প্রদান করলেও প্রসিডেন্ট এরশাদকে তরিকা না দিয়ে বলেছিলেন, আগে ভাল হয়ে আসেন। অর্থাৎ (কয়েক কোটি মুরিদদের সমর্থন পাওয়ার জন্য নয়, তরিকা নেওয়ার খাঁটি নিয়ত নিয়ে আসেন)। অথচ মিথ্যাবাদী এরশাদ ১৯৯৯ ইং সালের গোলযোগে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের লেখা কিতাবে প্রেসিডেন্ট এরশাদ ও ৩০০জন এমপিসহ বিচারপতিদের সমর্থন করা মন্তব্য ও সাক্ষর নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এরশাদ সাহেব সংসদে সরাসরি বলেন, তিনি শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরকে চেনে না। সংসদে এরশাদ সাহেবের এমন মিথ্যাচারের পর শাহ দেওয়ানবাগী হুজুর দরবার হতে প্রকাশিত দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোতে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের সাথে দেওয়ানবাগ শরীফে এরশাদের কথোপকথনের ছবিটি প্রকাশ করে মিথ্যাবাদী এরশাদের মিথ্যাচারের জবাব দেন।

দিন মাস বছর যত পার হয়েছে, শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের বিরুদ্ধে শত্রুরা শত্রুতা ততই বাড়িয়েছে। শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের শত্রুর সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের কাছে তরিকা নিতে আসেন। একদিকে তরিকা নিতে আসা অসংখ্য নতুন মানুষ, অপরদিকে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের অসংখ্য অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের সাথে সাক্ষাত করার জন্য সকাল হতেই দরবারে জড়ো হতে থাকেন। প্রতিদিন দূরদূরান্ত হতে আগত অসংখ্য মানুষের মনের বাসনা পূরণ করতে গিয়ে এক একজন করে তাদেরকে সাক্ষাত দিয়ে তাদের বিভিন্ন নিবেদন শুনেন। আগত দর্শনার্থীদের সাক্ষাত দিতে গিয়ে সকাল নয়টায় কুরছি মোবারকে তাশরিফ নেন। দুপুরে খাওয়া ও নামাজের সময়টুকু ছাড়া সবসময় তিনি আগত মানুষের সাথে কথা বলেন। এর সাথে কুরআন গবেষণা, বিভিন্ন কিতাব লেখা তো আছেই। তিনি তাঁর দরবারের বিল্ডিংয়ের সবজায়গায় যান না। কারণ দরবারে আগত নারীদের জন্য দরবারকে নারীদের জন্য ভাগ করা আছে। নিজের দরবারে নারীদের সেই জায়গাগুলোতেও তিনি যান না। অর্থাৎ পুরুষ বিভাগের মধ্যেই তিনি সকাল হতে রাত পর্যন্ত আগত দর্শনার্থীদের জন্য একই কুরছিতে বসেই বছরের পর বছর কাটিয়েছেন।

যিনি একটি বিল্ডিংয়ের নির্ধারিত একটি অংশে কুরছি মোবারকে বসেই সারাজীবন পার করলেন। তিনি কিভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেন? প্রতিদিন সকাল হতে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের আবেদন নিবেদন শোনা এবং তাদের সাথে কথা বলা কি সহজসাধ্য ব্যাপার? শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের সাথে সাক্ষাতে এসে যে নজর মানতের অর্থ শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের কাছে পেশ করা হয়, সেই অর্থ দিয়ে তিনি ১১টি দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পদ মোহাম্মদী ইসলামের প্রচারণার জন্য ট্রাস্ট করে দিয়েছেন। এরপরও যারা শাহ দেওয়ানবাগী হুজুরের বিরুদ্ধে এমন কথা বলেন, তারা বড়ই হতভাগা!

Scroll to Top