মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ – মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদে হযরত রাসুল (সা.)-এর দিদার লাভ।

জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর অক্টোবর নভেম্বর ডিসেম্বর

মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ – Milad Sharif of Muhammadi Islam – মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদে হযরত রাসুল (সা.)-এর দিদার লাভ।

মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজানের অসংখ্য ভক্ত-মুরিদান প্রতিনিয়ত মিলাদে রাহ্মাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর দিদার লাভ করছেন। তন্মধ্যে দুটি ঘটনা এখানে উপস্থাপন করা হলো-

বিশিষ্ট মুসলিম দার্শনিক, খ্যাতিমান ইসলামি গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ-এর প্রথম মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুঈন-উদ্-দীন আহমাদ খান, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের একজন আশেকে মুরিদ সন্তান। তিনি দেওয়ানবাগ শরীফে এসে সাধনায় নিমগ্ন থাকাকালীন বহু অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং রূহানি জগতের নিগূঢ় রহস্যপূর্ণ বিষয় অবলোকন করেছেন।

Milad Sharif of Muhammadi Islam. (মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ।

ড. খান ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসের বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.)-এর দিদার পাওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন যে, তিনি একদিন ঢাকার আরামবাগস্থ বাবে রহমত, দেওয়ানবাগ শরীফে মাগরিবের নামাজ আদায় করে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের সাথে মিলাদ মাহ্ফিলে অংশগ্রহণ করেন। কয়েকশত লোক সমেত এ মিলাদ মাহ্ফিলে গভীর ধ্যানমগ্ন হয়ে হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রেমে বিভোর অবস্থায় মিলাদ পড়ার সময় যখন উচ্চারিত হলো –

“১২ই রবিউল আউয়ালে, সোমবারের প্রভাতকালে

জন্মিলেন নুরের ছেলে, হযরত আমিনা মায়ের কোলে।”

হঠাৎ তিনি অন্তর্দৃষ্টিতে একটি জ্যোতির্ময় নবজাত শিশু দেখতে পান। এ জ্যোতির্ময় শিশুই যে হযরত রাসুল (সা.), তা বোঝামাত্রই গভীর প্রেমাবেগে তার অন্তর বিগলিত হয়ে গেল। তিনি অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর আবার যখন উচ্চারিত হলো-

“সূফী সম্রাটের অসিলা ধরে, ডাকিগো রাসুল আপনারে

দেখা দেন দয়া করিয়া, এই আরজ আপনার কদমে।”

তখন তিনি দেখতে পেলেন যে, হযরত রাসুল (সা.) পরিপূর্ণ বয়সে রূপান্তরিত হয়ে তার দিকে গভীর দরদভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। এ অবস্থায় তিনি মিলাদের শেষ অবধি হযরত রাসুল (সা)-কে অবলোকন করেন।

অপর ঘটনাটি গত ১৯৯৮ সালের মে মাসে, সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের একজন মুরিদ সন্তান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. ফিরোজ আই ফারুকী তার বাসায় মিলাদের আয়োজন করেন। সেখানে দেওয়ানবাগ শরীফের জনৈক আলেম মিলাদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। যখন ‘ইয়া ইমাম সালামু আলাইকা’ বলে কিয়াম করা হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দেখতে পেলেন যে, দোজাহানের বাদশাহ হযরত রাসুল (সা.) মিলাদ মাহ্ফিলে তশরিফ এনেছেন। তখন ফারুকী সাহেব হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রেমে আত্মহারা হয়ে গেলেন। তিনি দুহাত দিয়ে লোক সরিয়ে হযরত রাসুল (সা)-কে সামনে আসার জন্য জায়গা করে দিলেন। মিলাদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সকলে বসে গেলেন, কিন্তু ফারুকী সাহেব তখনও দাঁড়ানো। মিলাদে যোগদানকারী আশেকে রাসুলেরা তাকে বসার জন্য হাত ধরে টানছেন, অথচ ফারুকী সাহেব তখনও দাঁড়িয়েই রইলেন। পরে তিনি জানালেন যে, যখন তাকে বসতে বলা হয়েছে, তখনও হযরত রাসুল (সা.) তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এ অবস্থায় বসাটা তিনি চরম বেয়াদবি মনে করে বসলেন না।

এ ধরনের বহু ঘটনা দেশ-বিদেশের সর্বত্রই সূফী সম্রাটের মুরিদ সন্তানদের ভিতরে অহরহই ঘটছে।

মোহম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মােহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ নিম্নে প্রদত্ত হলােঃ

ইন্নাল্লাহা ওয়া মালায়িকাতাহু ইউছালুনা আলান্নাবীয়্যি ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ছাল্লু আলাইহি ওয়া ছাল্লেমু তাসলিমা

দরূদ শরীফঃ
আল্লাহুমা ছাল্লেআলা ছাইয়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মদ ওয়ালা আলে ছাইয়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মদ !!

নূর নবীজির আগমনে জগৎ হলাে উজালা

পড় দরূদ তার উপরে ওহে আশেকে নিরালা !

আল্লাহুম্মা ছাল্লেআলা ….. মাওলানা মুহাম্মদ !!

আপনার এশকে সকল সৃজন ঐ আকাশ আর এই জমিন

সকল সৃষ্টির মূলে আপনি রাহমাতাল্লিল আলামিন !

আল্লাহুম্মা ছাল্লেআলা ….. মাওলানা মুহাম্মদ !!

তুর পাহাড়ে মুসা নবী জুতা খােলার আদেশ পায়

দয়াল রাসূলের জুতার ধূলায় আল্লাহ্ আরশ ধন্য হয় !

আল্লাহুম্মা ছাল্লেআলা ….. মাওলানা মুহাম্মদ !!

আপনি আল্লাহর জ্যোতি ঝলমল হে ইমামুল মুরসালীন পড়েন দরূদ ফেরেস্তাদের নিয়ে স্বয়ং রাম্বুল আলামিন !

আল্লাহুম্মা ছাল্লেআলা ….. মাওলানা মুহাম্মদ !!

প্রাণের রাসূল হিজরত করে যেদিন গেলেন মদিনায়

মরণ জেনেও হযরত আলী শুইলেন তাহার বিছানায় !

আল্লাহুম্মা ছাল্লেআলা ….. মাওলানা মুহাম্মদ !!

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী মােহাম্মদী ইসলাম জাগালেন তার শিক্ষাতে কত আশেক রাসূল পাককে দেখিলেন !

আল্লাহুম্মা ছাল্লেআলা ….. মাওলানা মুহাম্মদ !!

দরূদ আর সালাম জানাই রাসূল আপনার পাক রওজায় ত্বরাইয়া নিবেন মরণকালে বাবা দেওয়ানবাগীর উছিলায় !

আল্লাহুম্মা ছাল্লেআলা …. মাওলানা মুহাম্মদ !!

নাহমাদুহু ওয়া নুছাল্লি আলা রাসূলিহিল কারিম –

ওয়ামা আর ছালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন –

কাছিদা শরীফঃ
ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ!!

আমার মউতের নিদানকালে আসিবেন মাের্শেদগাে রাসূলকে নিয়ে!

দেখিব আমি হৃদয় জুড়াইয়া!!

ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্। ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ!!

পাই যদি রাসূল আপনার দিদার মউতের কষ্ট থাকবে না আমার!

শান্তি পাবগাে আপনাকে দেখিয়া !!

ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্!!

মারা যাওয়ার পরে রাখবে না ঘরে গােসল করাবেন দয়াল প্রেমের ফায়েজে!

তারই পরশে গুনাহ যাবে ঝরিয়া!!

ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্। ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্!!

গােসল করাইয়া কাফন পড়াইয়া বিদায় দিবে আমায় সবাই মিলিয়া!

চলিব দয়ালগাে আপনার কদম ধরিয়া !!

ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ। ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ!!

জানাজার মাঠে নিবে খাটে করিয়া কাদিব আমি সব কিছু হারাইয়া!

থাকিবেন দয়ালগাে আমার সাথে মিশিয়া !!

ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ!!

জানাজা শেষে খাটেতে করিয়া গােরস্থানে নিবে কাধেতে তুলিয়া!

বলে দেন দয়ালগাে শাফায়াতের লাগিয়া!!

ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্!!

অন্ধকার কবরে আমায় একা রাখিয়া আপনজন সকলে যাবে যখন চলিয়া।

আসিবেন মাের্শেদগাে রাসূলকে নিয়া!!

আসিবেন মাের্শেদগে রাসূলকে নিয়া!!

ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ।।

মুনকার নকীর আসয়া

ছওয়াল করবে বসাইয়া জবাব দিব আমি আপনাকে দেখিয়া!

চুমিব আমি আপনার কদম ধরিয়া!!

ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ। ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবালাহ।।

দেওয়ানবাগীর আশেক হইতে যে পারে। বাসূল দয়া করে দেখা দেন তারে!

কবুল করিবেন তিনি উম্মত বলিয়া!!

ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবালাহ। ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ!!

আশেকের মিলাদে হাজির হন রাসূলে দেখা যায় তারে অন্তরচক্ষু খুলিলে!

তাঁর সম্মানে আসুন সালাম জানাই দাঁড়াইয়া!!

ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ ।

ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ!!

তাওয়াল্লাদ শরীফঃ
ইয়া ইমাম ছালামুয়ালাইকা – ইয়া রাসূল ছালামুয়ালাইকা ইয়া হাবীব ছালামুয়ালাইকা – ছালাওয়াতুল্লাহ আলাইকা!!

আরবের মরু প্রান্তরে – পাঠালেন প্রভু আপনারে

হযরত আব্দুল্লাহর শাহী প্রাসাদে – হযরত আমিনা মায়ের উদরে! ইয়া ইমাম ছালামুয়ালাইকা – ইয়া রাসূল ছালামুয়ালাইকা ইয়া হাবীব ছালামুয়ালাইকা – ছালাওয়া তুল্লাহ আলাইকা!!

বরই রবিউল আউয়ালে – সােমবারের প্রভাতকালে

জন্মিলেন নূরের ছেলে – হযরত আমিনা মায়ের কোলে!

ইয়া ইমাম হলামুয়ালাইকা – ইয়া রাসুল ছালাময়ালাইকা।

ইয়া হাবীব ছালামুয়ালাইকা – ছালাওয়াতুল্লাহ আলাইকা!!

রাসূলের পিতা হযরত আব্দুল্লাহ্ (আঃ) – রাসূলের মাতা হযরত আমিনা (আঃ)

রাসূলের দুধমা হযরত হালিমা (আঃ) ।

রাসূলের রওজা মদিনা!

ওয়া ইমাম ছালামুয়ালাইকা – ইয়া রাসূল ছালামুয়ালাইকা। ইয়া হাবীব ছালামুয়ালাইকা – ছালাওয়াতুল্লাহ আলাইকা!!

কুল-মাখলুক উদ্ধার করিতে – কতকষ্ট করলেন ধরাতে

কাদিতেন উম্মতের মায়ায় – এখনও কাঁদেন মদিনায়!!

ইয়া ইমাম ছালামুয়ালাইকা – ইয়া রাসূল ছালামুয়ালাইকা।

ইয়া হাবীব ছালামুয়ালাইকা – ছালাওয়াতুল্লাহ্ আলাইকা!!

হাশরে রাসূল দো-জাহান – কাঁদিয়া হবেন পেরেশান।

বলবেন হে পরওয়ারদিগার –

মাফ কর উম্মত আমার!

ইয়া ইমাম ছালামুয়ালাইকা – ইয়া রাসূল ছালামুয়ালাইকা।

ইয়া হাবীব ছালামুয়ালাইকা – ছালাওয়াতুল্লাহ আলাইকা!!

যে করবে মাের্শেদের অনুসরণ – পাবে সে রাসূলের দর্শন।

মছিবতে পাবে সে উদ্ধার – হবে তার মাওলার দিদার!

ইয়া ইমাম ছালামুয়ালাইকা – ইয়া রাসূল ছালামুয়ালাইকা ইয়া হাবীব ছালামুয়ালাইকা – ছালাওয়া তুল্লাহ্ আলাইকা!!

সূফী সম্রাটের উছিলা ধরে – ডাকিগাে রাসূল আপনারে

দেখা দেন দয়া করিয়া – এ আরজ আপনার কদমে!

ইয়া ইমাম ছালামুয়ালাইকা – ইয়া রাসূল ছালামুয়ালাইকা ইয়া হাবীব ছালামুয়ালাইকা – ছালাওয়াতুল্লাহ্ আলাইকা!!

বালাগাল উলা বি কামালিহি – কাশাফাদ দোজা বি জামালিহি। হাছ, নাত জামিউ খিছালিহি – ছালু আলাইহি ওয়া আলিহি ছাল্লেমু ইয়া কাওমু বাল – ছালু আলা ছদরিল আমিন । মােস্তফা মা জায়ে ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন।।

Scroll to Top