ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- দশম পর্ব।

ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- দশম পর্ব। -আশেকে রাসুল আক্কাস আলী। (ভয়েস টাইপিং পদ্ধতিতে পোস্ট করার জন্য বানান ভুল মার্জনা করবেন)
 
আমাদের এলাকায় বাবা দেওয়ানবাগী আল্লাহর ক্ষমতা দেখিয়েছেন৷ অনেকে হয়তো বলবেন, আমাদের এলাকায় বাবা দেওয়ানবাগীর অনেকে বিরোধিতা করছে, তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি নেমে আসে না কেন? আসলে এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, মুবাহেলা করার জন্য কেউ এগিয়ে আসছে কিনা? আমি আমাদের এলাকায় মোবাহেলার জন্য এগিয়ে এসে ছিলাম৷ মোবাহেলা হল আল্লাহপাকের ফয়সালাকারি একটা শক্তি৷ যে শক্তি অলৌকিক শক্তি৷ মিথ্যা বা বাতিল এর ধ্বংসের জন্য আল্লাহর শাস্তি বাদী বিবাদী মেনে নেয়৷ আমি নিজের জীবনকে বাজি রেখে মোবাহেলায় এগিয়ে এসে ছিলাম৷ আমরা প্রতি সপ্তাহে আমাদের গ্রামের বাড়ির খানকায়ে মিলাদ মাহফিল প্রচলন করেছিলাম৷ বিভিন্ন বড় বড় বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো আমরা সংগঠিত করতাম৷ এরূপ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে আমাদের গ্রামের মসজিদের পক্ষ থেকে বাধা দেয়৷ তারা আমাদের খানকায়ে এসে অতর্কিতে হামলা চালায়৷ পাড়ার কর্মকর্তারা এতে ইন্ধন দেয়৷ সমস্ত গ্রামের মুসুল্লিরা এতে অংশগ্রহণ করেছিল৷ তাদের উস্কানি দেওয়া হয়েছিল৷ এরা চলে যাওয়ার পর পাড়ার কর্মকর্তাদের বাড়িতে গিয়ে আমরা পাল্টা প্রতিরোধ করি৷ এরা ভয়েতে পালায়৷ এটা ছিল আমাদের প্রথম প্রতিরোধ৷
 
ইতিমধ্যে আমার ভাইয়েরা আমার অনুগত হয়ে গিয়েছিল৷ তাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করায় তারা খুশি হয়েছিল৷ এর আগে আমার বৈমাত্রেয় ভাইকে বা চাচাতো ভাইয়ের ছেলেকে জেল থেকে জামিন করে নিয়ে এসেছিলাম৷ ফলে এদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেকটা কাছাকাছি হয়েছিল৷ এ সময় আমি প্রায় বনগাঁর বাড়িতে চলে যেতাম৷ প্রথম বিয়ে করার পরে আমি বনগায় শ্বশুর বাড়িতে থাকতাম৷ এইখান থেকে দরবারে যাতায়াত সুবিধা ছিল৷ বনগাঁর বাড়ি বলতে বনগাঁ মহাকুমা বাগদা থানা হরিহর পুর গ্রামে আমার শশুর বাড়ি ছিল৷ একবার এই বাড়ি থেকে আমি জন্ম ভিটা গ্রামের বাড়িতে আসি৷ এই সময় বাড়িতে ঢুকে দেখি একদল লোক হইহই করে ছুটে আসছে৷ আমার পাড়ার ভাই ভাইপোরা ছুটে পালাচ্ছে৷ এরা চলে যাওয়ার সময় আমার ভাইদের সেই সঙ্গে আমাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিচ্ছিল৷ আসলে এই সমস্ত লোক গুলো ছিল নতুন শাসক টিএমসি পার্টির লোক৷ আমার ভাইয়েরা রাজনীতিতে সিপিএম করতো৷ যদিও আমি কোন রাজনীতি করতাম না৷ তা সত্ত্বেও সিপিএম রা তাদের শাসনে আমার উপর অত্যাচার করেছিল৷ তার মূল কারণ ছিল আমি তাদের ধার ধারতামনা৷ বাবা দেওয়ানবাগীর দরবারে যাওয়ার পরে আমি তাঁর মধ্যে আল্লাহর শক্তি খুঁজে পেয়েছিলাম৷ তিনি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বন্ধু ছিলেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না৷ তাঁর শক্তির কাছে বিশ্বের সমস্ত শক্তি নিষ্প্রভ ছিল৷ সে কারণে বাবার শক্তিতে আমি শক্তিমান ছিলাম৷ তাই কোন রাজনীতির লোককে গুরুত্ব দিতাম না৷ টিএমসির শাসকের প্রায় হাজার খানেক লোক আমাদের পাড়ায় হামলা চালিয়ে ভয় ধরিয়ে চলে যাচ্ছিল৷ আমি সেদিন সবেমাত্র বাড়িতে পৌঁছেছি৷ আস্তে আস্তে পাড়ার ভিতরে এগিয়ে গেলাম৷ সেখানে গিয়ে দেখি যারা পালিয়ে গিয়েছিল, সেই সমস্ত ভাই ভাইপোরা আস্তে আস্তে বাড়ির রাস্তায় মাথা হেঁট করে বসে আছে৷ আমি তাদের বললাম ব্যাপারটা কি? তারা বলল, যেহেতু এখন টিএমসি জিতেছে, তাই এই হামলা৷ আমি বললাম যে যার পছন্দমত রাজনীতি করতে পারে, তাতে হামলা করার কি আছে? তোরা সবাই পালিয়ে গেলি কেন? বাইরের লোকজন এসে পাড়ায় হামলা করল, আর তোরা সব পালিয়ে গেলি? এটাতো কাপুরুষের পরিচয়? আমাকে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিল কেন? এই কথাগুলো ওদের কাছে সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়৷ এরা তখন আবার পাল্টা আমার উপর হামলা চালাতে অগ্রসর হয়৷ হাজার হাজার লোক আমার বাড়ির দিকে ছুটি আসছিল৷ এই সময় মহান মুর্শিদ সূফী সম্রাট হযরত শাহ দেওয়ানবাগী হুজুর আমাকে ফোন করেন, তিনি কোন সময় আমাকে এভাবে ফোন করেননি৷ আমি ফোন তুলে আমার অবস্থার কথা বললাম, বাবা বললেন, কেমন আছেন? আমি বললাম, বাবা আপনার দয়ায় আছি একরকম৷ কিন্ত এক্ষুনি হাজার হাজার লোক আমার দিকে তেড়ে আসছে৷ বাবাজান বললেন প্রতিরোধ করুন, আমি সঙ্গে আছি৷ বাবা জীবনে আমাকে এভাবে সরাসরি ফোন করেননি৷ এই সর্বপ্রথম কঠিন বিপদে জাহেরিতে সরাসরি ফোন করলেন৷ বাবার ফোন পেয়ে আমি এক অলৌকিক শক্তির অধিকারী হয়ে গেলাম৷ এক বিকট চিৎকার দিলাম৷ পাশের পাড়ার লোক ছুটে এলো৷ আমার ছেলে ভাগনা চাচাতো ভাই এরা রুখে দাঁড়াল৷ আমার বাড়ির সামনে দেখা গেল এদের কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে৷ আমার বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে আমার পাড়ায় এক চাচাতো ভাই দুশমনি করত৷ এটা আমি উত্তরাধিকার সূত্রে দুশমনিটা পেয়েছিলাম৷ সেই দুশমনের হাত ভেঙে ঝুল ছিল৷ এরা হাজার হাজার লোক নিয়ে এসেছিল, কিন্তু এখন আমার বাড়ির সামনে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে৷ আমার বাড়ির লোকেদের ছেলেদের একজনের ও গায়ে আঘাত লাগেনি৷ অলৌকিক ব্যাপার৷ আমার বাড়ির ছেলেরা ভাইয়েরা মাত্র সক্রিয় 5 থেকে 7 জন আর পাশের পাড়ায় জনা দশেক এসেছিল৷ অথচ হাজার হাজার লোক মার খেয়ে পালিয়ে গেল৷
 
এভাবে বারে বারে রাজনৈতিক শাসক দল আমার সাথে ঝামেলা করে৷ আমি এদের খুব একটা গুরুত্ব দিতাম না, কারণ এরা ধর্ম আচরণ করতো কম, অধিকাংশ অসৎ প্রকৃতির লোক৷ এদের মধ্যে হিংসা কাজ করতো৷ এজন্য সিপিএমের সময় সিপিএম কর্মকর্তারা টিএমসির সময় টিএমসি কর্মকর্তারা আমার সঙ্গে ঝামেলা ঘটায়৷ আমার যে চাচাতো ভাই এর হাত ভেঙে গিয়েছিল সে একটা বড় নেতা গোছের লোক ছিল৷ তাই তাদের রাগ ছিল খুব৷ পরবর্তীতে তাই তারা আবার হামলা চালিয়েছিল কিন্তু প্রতিবারে তাদের বেইজ্জত হতে হয়েছে৷ সংখ্যা আমাদের কম হতে পারে৷ কিন্তু শক্তি অনেক সুদূরপ্রসারী৷ সুফী সম্রাট হযরত শাহ দেওয়ানবাগী হুজুর তথা ইমাম মাহদী (আঃ) এর শক্তি আমাদের সাথে ছিল৷ এর পরে তারা বিধানসভা ভোটে জিতল, কিন্তু দিল্লীর কংগ্রেস সরকার আমাদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ কংগ্রেসী কর্মী কম, কিন্তু আমাদের উপর হামলা করতে গিয়ে কাগজে কলমে এক বড় কংগ্রেস নেতা ডালিমকে আঘাতপ্রাপ্ত করে৷ আমাদের ছেলেদের গুলি করতে গিয়ে ওদের নিজেদের (টিএমসি) দুই সমর্থকের গুলি লাগে৷ আর কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতা মন্ত্রী কংগ্রেস কর্মী বলে তৎপরতা চালায়৷ ঐ হাতভাঙা নেতা ও তার দলবল পালিয়ে কুল পায়না৷ বর্তমানেঐ হাত ভাঙা নেতার সাথে অন্যান্য নেতাদের দ্বন্দ্বে ওদের মান সম্মান একেবারে তলানিতে৷ কথাও কেউ বলেনা৷ সমাজে একেবারে একঘরে৷ কেউ আর তাকে বিশ্বাস করেনা৷ আসলে অসৎ লোকের সংখ্যা বেশি৷ শয়তানের সমর্থক বেশি৷ তবে শয়তান তার দলকে এক করে রাখে না৷ এরা একতাবদ্ধ হয়ে থাকলে সৎ লোক কখনোই জয়ী হতে পারেনা৷ অসৎ লোক দলবদ্ধ থাকতে পারে না বলে, এবং তাদের মধ্যে বিভেদ হয় বলে, সৎ লোক মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে৷ এভাবে যুগে যুগে সত্য প্রকাশ পেয়েছে৷ অসৎ লোকের আত্মিক শক্তি কম, তাই যুগে যুগে সজ্জনদের সংখ্যা কম হলেও তারা জিতে যায়৷ জালেমরা শেষ কথা বলে না শেষ কথা বলে মজলুম৷ (ক্রমশ চলতে থাকবে)
Scroll to Top