ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- একাদশ পর্ব।

ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- একাদশ পর্ব।
-আশেকে রাসুল আক্কাস আলী। (ভয়েস টাইপিং পদ্ধতিতে পোস্ট করার জন্য বানান ভুল মার্জনা করবেন)
আমি আমার মুরশিদের রূপ চেহারায় মুগ্ধ হয়ে সম্মোহিত হয়ে গিয়েছিলাম৷ তাঁর মুখশ্রীর কাছে চাঁদ ম্লান৷ ইন্তেকালের আগে পর্যন্ত তাঁর মুখশ্রী একরূপ ছিল৷ তাঁর চোখ মোবারক তাঁর কান মোবারক তাঁর ঘাড় মোবারক চুল মোবারক কদম মোবারক হাত মোবারক দেখার মত৷ আল্লাহ পাক একটা নূরের পুতুল আমাদের সামনে উপহার দিয়েছিলেন৷ আমরা কোরআন হাদিসে পড়েছি, রাসূল নূরের পুতুল ছিলেন৷ কিন্তু চোখে দেখি নি৷ আর আমাদের চোখের সামনে সেই নূরের পুতুল দেখলাম৷ যেদিন থেকে দেখলাম, সেদিন থেকে স্ত্রী-পুত্র পরিবার পরিজন কিছুই ভালো লাগেনা, ব্যবসা বাণিজ্য টাকাপয়সা তুচ্ছ হয়ে গেল৷ যৌবনের কত স্বপ্ন ছিল, জীবনের কত আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল, পার্থিব জীবনে সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হব৷ বাবা দেওয়ানবাগী কে দেখার পরে মনে হল আমার মত পাপী আর ভারতে নেই৷ কী করে গুনাহ খাতা মাফ করতে পারি, মুক্তি পেতে পারি, এটাই তখন একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান৷ যার কারণে অর্থ উপার্জন আর মুখ্য উদ্দেশ্য থাকলো না৷ আমি দুটি এলাকার কেরোসিন ডিলার ছিলাম৷ বহু ডিলার অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে৷ কিন্তু আমি মুর্শিদ প্রেমে পাগল হয়ে গেলাম৷ অর্থ ভালো লাগেনা, ধন-সম্পদ ভালো লাগেনা, স্ত্রী-পুত্র পরিবার-পরিজন ভালো লাগেনা, আত্মীয়-স্বজন কিছুই ভালো লাগেনা৷ শুধু ভালো লাগে আমার মুর্শিদ কে৷ তবে আমার মুর্শিদ আমাকে পার্থিব সম্পদ থেকে একেবারে বঞ্চিত করে রাখেন নি৷ যতটুকু চলার দরকার, তার থেকে বেশি সম্পদ পেয়েছি৷ আমি তাঁকে কাছে থেকে দেখেছি৷ আর শানমান গুনগান আমার মত নালায়েকের পক্ষে সঠিকভাবে প্রকাশ করার যোগ্যতা আমার নাই৷
 
আমি রোজ একটি করে পর্ব যদি রচনা করি, আমার মৃত্যু পর্যন্ত শেষ হবে না৷ তবু আমি চেষ্টা করব, প্রত্যেকদিন তাঁকে নিয়ে মোহাম্মদী ইসলামের রুপরেখা প্রকাশ করার৷ তবে বর্তমানে একদল চাটুকার মোহাম্মদী ইসলামে দেখতে পাচ্ছি৷ তারা মেজ হুজুর কে এনে আমার মুরশিদের শানমান খর্ব করার চেষ্টা করছে৷ মেজ হুজুরের ভবিষ্যৎ অনেক সুদূরপ্রসারী৷ তাঁর শান মান কতদূর পৌঁছাবে ভবিষ্যৎ বলবে৷ তবে বর্তমানে তাঁর যে অবদান সেটাও অবিস্মরণীয়৷ তা তুলনাহীন৷ আল্লাহ পাক তাঁর মর্যাদার পরিধি আরও বাড়াতে পারেন৷ তবে আমার প্রাণপ্রিয় মুর্শিদের সঙ্গে কখনো তুলনা করা ঠিক হবেনা৷ রাসুলের সঙ্গে মুর্শীদের, মুর্শীদের সঙ্গে মেজহুজুরের যারা তুলনা করছে, তারা মূলত ফেতনাবাজ৷ আল্লাহ পাক তাঁকে এমন ক্ষমতা দিয়েছিলেন যে, শত্রুরা কখন কি আঘাত হানবে, তার আগে আমার মুর্শিদ জানতে পারতেন৷ তিনি গায়েবের সংবাদ জানতেন৷ রাসুল পাকের দুশমনেরা তাঁর সাহাবীদের বহুভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, শহীদ করেছে, বীর মাওনার যুদ্ধে শহীদ করেছে, নিধন করেছে৷ সেখানে রাসুল পাক এসব খবর তার সাহাবীদেরকে দিলে এত ক্ষতি হত না৷ আসলে আল্লাহপাক যতটুকু গায়েবের খবর আমার নবী পাক কে দিয়েছেন, নবী পাক ততটা সংবাদ প্রকাশ করেছেন৷ সাহাবীদেরকে জানিয়েছেন৷ কিন্তু আমার প্রাণপ্রিয় মুর্শিদ বাবা দেওয়ানবাগী কে আল্লাহ পাক সংবাদ দিয়েছেন, সমস্ত নবী সমস্ত রাসুল সংবাদ দিয়েছেন, এমনকি নবী মোস্তফা সর্বাবস্থায় তাঁকে সংবাদ পরিবেশন করেছেন৷ তাই বাবা দেওয়ানবাগীর একটিও আশেক কে দুশমনেরা শহীদ করতে পারিনি, ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি৷ একটি মাত্র আশেক তার নিজের ইচ্ছায় শহীদ হয়েছিল৷ শাহাদাতের মর্যাদা পাবে বলে সে মানত করেছিল এবং শহীদ হয়েছিল৷ কিন্তু কোন অনুসারীকে একটাও লোম নাড়াতে পারেনি দুশমনেরা৷ আমার জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনাদের সামনে তা পরিবেশন করব৷
 
আমি আগে বলেছিলাম, আমার দুটি স্ত্রী 2 বাড়িতে থাকে৷ একটি উত্তর 24 পরগনায় শেষ সীমানা বাংলাদেশ বর্ডারের ধারে বাগদা থানা হরিহরপুর গ্রামে৷ আরেকটি আমার জন্মভিটে দক্ষিণ 24 পরগনার ক্যানিং থানা হাটপুকুর গ্রামে৷ তরিকা নেওয়ার পরে আমার গ্রামে যেমন বিরোধিতা হচ্ছিল, তেমন করে আমার দ্বিতীয় বাড়ি হরিহরপুরে দুশমনেরা দুশমনি করছিল৷ এখানে আমার শ্বশুর বাড়ি৷ আগে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের আমি দাওয়াত দিয়ে তাবলীগে নিয়ে এসেছিলাম৷ এই এলাকায় আমার শ্বশুর একটি খারিজি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিল৷ আমার এক চাচা শশুর আরেকটি খারিজি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিল৷ পাশাপাশি দুই অঞ্চলে 2 এলাকায় দুটি বড় বড় খারিজি মাদ্রাসা৷ দেওবন্দ সিলসিলার মাদ্রাসা অর্থাৎ সব ওয়াহাবি গ্রুপ৷ ওয়াহাবি গ্রুপ অলি আল্লাহ পীর মুর্শিদের শানমান বোঝেনা৷ তাই আমি তরিকা নেওয়ার পরে এইসব এলাকা থেকে বিশেষ করে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে দুশমনি করেছিল৷ আমার শ্বশুর ইতিমধ্যে মারা গিয়েছিলেন৷ তাঁর মৃত্যুর পর আমি বিয়ে করেছিলাম৷ তিনি খুব প্রখ্যাত আলেম ছিলেন৷ মাদ্রাসার হেড মুদারিস ছিলেন৷ তাঁর স্বরচিত বহু ফার্সি কবিতা রয়েছে৷ আমার বাড়িতে বাবাজানের ছবি মোবারক সব সময় প্রকাশ্যভাবে সুরক্ষিত ছিল৷ আমার মেজ শালিী গ্রাজুয়েট এবং শিক্ষকতা করতো৷ ধর্মীয় রীতিনীতির মধ্যে আমার স্ত্রী শালা-শালীরা বড় হয়েছিল৷ তবে সব ওহাবী চিন্তাভাবনা৷ যার কারণে আমার সঙ্গে তাদের সংঘাত দেখা দেয়৷ আমার মেজ শালি বাড়িতে নামাজ পড়তে গিয়ে বাবাজানের ছবি মোবারক উল্টে দেয়, চাপা দেয়৷ এতে আমার ছোট ছেলে, সাত আট বছর বয়সের ছেলে জাহির আব্বাস আমাকে ডেকে বলে, আব্বা, খালা কি শয়তান ?বাবাজানের ছবি উল্টে দিয়েছে? আমি এর আগে বলেছি আমার সব স্ত্রী পুত্র কন্যা সবাই আশেকে রাসুল৷ তার খালা একথা শুনে আমার স্ত্রীকে বলে, বুবু, ওইটুকু ছেলে আমাকে শয়তান বলে? তার বুবু কোনো প্রতিবাদ করেনি৷ এই নিয়ে বাড়িতে ঝামেলা হয়৷ এক পর্যায়ে আমার শালি আমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যায়৷ আমি বাড়িতে সব সময় মিলাদ পড়তাম৷ রহমতের সময় জোরে জোরে রহমতের ডাক ছাড়তাম৷ তবে পাড়ায় খুব একটা অসুবিধায় পড়িনি৷ কিন্তু বাড়িতে বড় করে মাহফিল দিয়েছিলাম৷ নামকরা বক্তা নিয়ে এসেছিলাম৷ আমার বাড়ির পাশেই প্রায় চাচা শশুরের মাদ্রাসা৷ চাচাতো শালা দুইজন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক৷ আর একটা চাচাতো শালা আমার শ্বশুরের হাতের মাদ্রাসার শিক্ষক৷ এরা আমার তরিকার দুশমনি করত৷ জলসার পরের দিন ওই মাদ্রাসায় আমাকে ডেকে আমার শালারা আরো বাইরের কিছু আলেম ওলামাদের নিয়ে আমাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করে৷ এই এলাকায় ফুরফুরা পন্থীরা আমার পাশে ছিল৷ কিন্তু আত্মীয় হিসেবে আমার শ্বশুরবাড়ির গ্রুপ আমার দুশমন ছিল৷ আমার পাড়ায় ফুরফুরা পন্থীরা, এরা মূলত বসিরহাট থেকে আগত৷ এরা এখানে এসে বসবাস করে৷ প্রায় 25 —30 ঘর এখানে বসবাস করে৷ এই সঙ্গে আরও তাদের আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী বহু সমর্থক ছিল৷ পাশের গ্রাম মধুপুর, পাটকেলগাছা গ্রামের বহু পীর পন্থী লোক ছিল৷ পাটকেলগাছায় প্রায় সবাই পীর পন্থী৷ আমার সাথে যোগাযোগ করত৷ অনেকে আমাদের তরিকা নিয়েছিল৷
 
আমি বেশিরভাগ সময় ঢাকা দরবারে কিংবা বাইরে সফরে থাকতাম৷ বাড়িতে খুব কম থাকতাম৷ আমার বাড়িতে আগে প্রায় চুরি হতো৷ আমার স্ত্রী প্রচুর মুরগি হাঁস পুষত৷ চোরেরা হাঁস মুরগি চুরি করে নিয়ে যেত৷ গাছ থেকে নারকেল নিত৷ একদিন এক চাচাতো শালা এসে বলল, বুবু , তোদের বাড়ি আর চুরি হবে না৷ এতদিন আমরা চুরি করতাম৷ কারণ হিসেবে সে জানালো, গতরাতে তারা নারকেল পাড়বার জন্য গাছের গোড়ায় এসেছিল৷ গাছে উঠবে, এমন সময় একটি সাপ ফণা ধরে ছুটে আসলো৷ এরা পালিয়ে গেল৷ কিন্তু সাপকে দেখতে পেল না৷ পরিষ্কার মাঠ৷ সাপটা উধাও৷ দ্বিতীয়বার একটা লাঠি নিয়ে এরা গাছের গোড়ায় গেল৷ চারধারে দেখে নিল, কোনো সাপ নেই৷ লাঠি রেখে গাছে উঠতে যাবে, এমন সময় সাপটা আবার ছুটে এলো৷ এরা সবাই পালিয়ে গেল৷ লক্ষ্য রাখছে৷ সাপটা কোন দিকে যায়? কিন্তু সাপ উধাও৷ এরা ভাবল৷ এটা সাপ নয়, সাপ হলে এভাবে চোখের সামনে থেকে উধাও হতে পারেনা৷ তখন এরা ভাবল, এটা বাবা দেওয়ানবাগীর খেলা৷ তাই তার পরদিন তারা এই ঘটনাটা আমার স্ত্রীর কাছে সব খুলে বলল৷ আমার বাড়ির চারপাশে সব সময় সুগন্ধি খশবু পাওয়া যেত৷ যত রাত হত, বাড়ির চার ধারে একটা সুন্দর গন্ধ প্রস্ফুটিত হত৷ এটা সবাই উপলব্ধি করতো৷ একসময় এক গভীর রাতে বাড়িতে চোর ঢুকে, আমার বড় মেয়ে তাহিরা দরবারে খেদমত করতে৷ ছোট বেলা থেকে দরবারে খেদমত করত৷ আট বছর বয়স থেকে দরবারে আছে৷ তখন সে প্রাইমারি স্কুলে পড়তো৷ তারপরে সে হাই স্কুলে প্রবেশ করে৷ দরবারে 6 কিংবা 8 মাস থাকতো তারপর বাড়ি আসত৷ স্কুলে যেত৷ পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দিত৷ পরীক্ষার পরে আবার দরবারে চলে যেত৷ এইভাবে সে নয় দশ বছর ধরে খেদমত করত৷ বাড়িতে থাকার সময় ওই রাতে সে তার মাকে ডেকে তুলেছে৷ বলল, মা, বাড়িতে চোর ঢুকেছে৷ ওর মা হারিকেনের আলো নিয়ে বাড়ির আশেপাশে দেখল কিন্তু চোর দেখতে পেলোনা৷ আবার বলল, মা, ভালো করে দেখো, চোর অবশ্যই আছে৷ ওর মা আবার দেখলো৷ উঠানে গিয়ে দেখল, কোথাও চোর নেই৷ মা বলল, ঘুমিয়ে যাও৷ ঘুমের ঘোরে কী দেখেছ? সে বলল চোর রয়েছে, ঘুমালে হবে৷ সে বলল বাগানের পিছনে ঝোপঝাড়ের ভিতর দেখো৷ তখন আমাদের এলাকায় কারেন্ট আসেনি৷ তাই হারিকেনের আলো নিয়ে ওর মা দেখতে গেল, আর তখনই চোর ঝোপ ভেঙে পালিয়ে গেল৷
Scroll to Top