ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- তৃতীয় পর্ব।

ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- তৃতীয় পর্ব।। লেখকঃ আশেকে রাসুল আক্কাস আলী।
বাবা দেওয়ানবাগীর নির্দেশে কলব দেখানো এবং সারা ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করার উদ্দেশ্য নিয়ে 97 এর সম্মেলন থেকে দেশ ভারতে চলে এলাম৷ সেই সময় থেকে বাবাজানের চেহারা ছাড়া আর কিছু ভাল লাগছিল না৷ আমি সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন সব ছেড়ে দিলাম৷ ব্যক্তিগত ব্যবসার দিকে মন যাচ্ছিল না৷ কিভাবে তরিকার প্রচার করা যায় প্রসার ঘটানো যায় এটাই ছিল মাথায়৷ এক মাসের মধ্যে 4 বা 5 জন এলাকার ভাইকে নিয়ে আবার দরবারে গেলাম৷ এইভাবে মাসে মাসে যেতে লাগলাম৷ সব সময় 5 থেকে 7 জন করে লোক নিয়ে যেতাম৷ এলাকায় আমি আগে টিউশনি করতাম৷ সেই টিউটর হিসেবে কিছু ছাত্রকে নিয়ে গেলাম৷ এরপর কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কে নিয়ে গেলাম৷ একজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা তার স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না৷ মহিলাটি তার সাথে ঁঁসংসার করছিল না, আবার ছেড়েও দিচ্ছিল না ৷ এ লোক খবর পাচ্ছে, তার স্ত্রী অন্যত্র সংসার করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ তালাক দেওয়ার কথা বললে প্রচুর অর্থ দাবি করছে৷ সে একপ্রকার হতাশ ভাবে আমার সাথে দরবারে চলে আসে৷ বাবাজানের কাছে সব বলে৷ বাবাজান বলেন , 15 দিনের মধ্যে ব্যবস্থা হবে ,ফয়সালা হয়ে যাবে৷ চলে যান৷ সে বাড়িতে আসার পরে সবাইকে এই কথা জানালো৷ 15 দিনের আগে ওই মহিলাটি উকিল দিয়ে চিঠি পাঠায়, যে তাকে অর্থ না দিয়ে তালাক দিয়ে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করার কথা বলে৷ সাইফুদ্দিন সাহেব খুব খুশি হলো৷ পরবর্তীতে সে প্রধান হয়েছিল৷ কখনো প্রধান বা উপপ্রধান অথবা তার স্ত্রী প্রধান এরকম রাজনৈতিক প্রধান পদাধিকারী কয়েকবার৷ সে পরবর্তীতে বাবাজানের উপর খুবই বিশ্বাস রাখত৷ সে পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়িয়ে ছিল৷ তখন স্কুলে অর্থাৎ ভোটকেন্দ্রে শেষে ভোট গণনা হতো৷ ভোট গণনার সময় দেখা গেল তার প্রতীক ফুল চিহ্ন এর ব্যালট পেপার অনেক কম৷ বিরোধীদলের ব্যালট পেপার অনেক বেশি৷ তখন সে ভাবল আমি হেরে যাবো৷ সে আস্তে আস্তে স্কুল থেকে বের হয়ে নির্জন মাঠের দিকে চলে গেল৷ আর বাবাজানের খেয়াল করে কাঁদতে লাগলো৷ বাবা আমি মহা বিপদে, আমি হেরে গেলে এলাকায় থাকতে পারবো না, পালাতে হবে৷ আমাকে একটা ব্যবস্থা করুন, এরকম চিন্তা ভাবনা করে কান্নাকাটি করছিল৷ ইতিমধ্যে ভোট গণনা শেষ৷ তার লোকেরা সর্মথকরা তার নামে স্লোগান দিচ্ছিল৷ সে আস্তে আস্তে ভোট কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে গেল৷ সবাই বলছিল, সাইফুদ্দিন সাহেব, তাড়াতাড়ি স্বাক্ষর করে আসেন৷ আপনি জিতে গেছেন৷ সে অবাক হয়ে গেল৷ আর বাবাজানের কাছে শুকরিয়া জানালো৷
আমি এ সময় বাবাজান কে দেখার জন্য পাগল ছিলাম৷ বিনা পাসপোর্টে চলে যেতাম৷ অনেক সময় পদ খরচা থাকত না৷ বর্ডার থেকে গরুবোঝাই গাড়িতে ট্রাকে চলে যেতাম৷ ট্রাকে গেলে খরচা লাগবে না৷ ফিরবার সময় ভাড়া না থাকায় ঢাকায় জাকের ভাইদের কাছ থেকে বিশেষ করে যাত্রাবাড়ীর জসিম ভাইয়ের এবং বাবাজানের জমি দেখভালের দায়িত্বে থাকা মোজাফফর বা ওই ধরনের নামের ভাইয়ের কাছ থেকে ভাড়ার টাকা নিয়েছিলাম৷ আসলে তখন কোন ইনকাম করার লক্ষ্য ছিল না৷ সব সময় বাবাজানের দেখার আশায় পড়ে থাকতাম৷ দরবারে গিয়ে 10 দিন 15 দিন একটানা থাকতাম৷ সঙ্গে 5 থেকে সাতজন ইন্ডিয়ানদের নিয়ে যেতাম৷ তারা আমার সঙ্গে থাকত৷ 98 সালে পাসপোর্ট করি এরপর পাসপোর্টেও যেতাম আবার উইদাউট পাসপোর্টে যেতাম৷ এদিকে বাড়িতে এসে মাইক সেটের একটা ব্যবস্থা করলাম ৷প্রতি মসজিদে মসজিদে কিংবা কারো বাড়িতে মিলাদ করতাম, বয়ান করতাম৷ কোন হাদিয়া ছাড়া আমরা মিলাদ করতাম৷ মাঝে মাঝে সারারাত বা মধ্যরাত পর্যন্ত জলসা মাহফিলের ব্যবস্থা করতাম৷ আমার সঙ্গে কয়েকটি আলেম বরাদ্দ ছিল৷ মাওলানা হায়দার সাহেব মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ সাহেব সুফি হাশেম সাহেব মাওলানা শওকত আলী সাহেব আমার একটা আত্মীয় মাওলানা আবুল খায়ের সাহেব ভাওর এর এক বন্ধু মাওলানা নজরুল ইসলাম সাহেব প্রমুখ বক্তাগণ আমার সঙ্গে ছিল৷ এদের অধিকাংশই দরবারে গিয়েছিল৷ সপ্তাহে সপ্তাহে আমার বাড়ি তে মজলিস হতো৷ বাড়ি লাগোয়া একটা খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠা করলাম৷ এটি আমার ক্যানিং থানার হাটপুকুরিয়া গ্রামের বাড়িতে৷ চারধারে তখন মোহাম্মদী ইসলামের প্রচার প্রসার খুব হচ্ছিল৷
আমাদের প্রচার দেখে আমি যাদের সাথে তাবলীগ করতাম, তারা হিংসায় ফেটে পড়ল৷ মরা পিয়া মাদ্রাসার হেড মদারেস মাওলানা আঃ রসিদকাসেমী সাহেব আমাদের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল৷ সে আমাদের বিরুদ্ধে দাড়িয়া বাজারে 24 ঘন্টা ব্যাপী একটা বিশাল মাহফিলের আয়োজন করল৷ আমার বাড়ির এবং এলাকার আশেপাশে প্রায় 70 টা মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন ও মাতাওল্লীদের দাওয়াত দেয়৷ আর ফুরফুরাপন্থী ওদেওবন্দী মিলে ৫২জন মাওলানাকে বক্তা হিসাবে আমন্ত্রন করল৷ ঢাকা থেকে বাবাজানের কাছে বলে একটা জলসায় মুক্তি রফিক সাহেব কে নিয়ে গিয়েছিলাম তিনি ওই সময়ে আমার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন ওই বিরুদ্ধ জলসায় আমাকে কাফের ফতোয়া দেওয়া হয়৷ এলাকার সমস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিল৷ আমাকে প্রকাশ্যে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়৷ আমার এক আত্মীয় তাদের প্ররোচনায় আমাকে ধরার জন্য সশস্ত্র অবস্থায় খোঁজাখুজি করে৷ মুফতি রফিক সাহেব ছদ্মবেশে রাত্রে ওই জলসায় উপস্থিত ছিল। (ক্রমশ চলতে থাকবে)
Scroll to Top