ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- চতুর্থ পর্ব।

ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- তৃতীয় পর্ব।। লেখকঃ আশেকে রাসুল আক্কাস আলী। তৃতীয় পোস্টে শেষের দিকে বলেছিলাম, দারিয় বাজারে মোহাম্মদী ইসলাম এর বিরুদ্ধে-
বিশেষত আমার বিরুদ্ধে যে বিরুদ্ধ সভা হয়েছিল, তাতে ফুরফুরা এবং তাবলীগ সবাই এক হয়েছিল৷ এখানে সবার শেষে এদের নিজেদের মধ্যে মত দ্বন্দ্ব হয় সালাম কিয়াম নিয়ে৷ সেই সময় মুফতি রফিক সাহেব ঢাকা দরবারে ফোন করে আমার সমস্যার কথা তুলে ধরে৷ বাবাজান বলেন, ফায়েজ ভালো পাচ্ছি, কোন সমস্যা হবে না৷ এই সভায় যারা আমার বিরোধিতা করেছিল প্রত্যেকে আল্লাহর লানত পেয়েছিল, অনেকেই এলাকাছাড়া হয়েছিল, যেসব ইমাম বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিল, তারা মসজিদ ছাড়া হয়েছিল৷ ইমামতির চাকরি হারাতে হয়েছে৷ এর আগে দরবার থেকে একদিন বাবাজানের খাস মজলিসে শুনছিলাম, কলকাতা শহরের কুতুব ঘুটিয়ারি শরিফে থাকে৷ ইনি হলেন দূর্গা মাসি৷ এই দুর্গা মাসির খবর শুনে মেদিনীপুরের এক ভাই আমার সাথে খিদিরপুরে যাওয়ার সময় ঘুটিয়ারি শরিফ ওনার সঙ্গে দেখা করার জন্য ওনার বাসায় যাই, উনি একটা অখ্যাত ও বিতর্কিত জায়গায় থাকতেন৷ আমরা দেখা করতে গেলে উনি রেগে গিয়ে বললেন, তোমরা খিদিরপুরে যাচ্ছ সেখানে যাও৷ আমার সাথী মেদিনীপুরের মজিবর ভাই অবাক হয়ে গেলেন৷ আমরা খিদিরপুরে যাচ্ছি উনি জানতে পারলেন কিভাবে? যার কারণে আমরা আরো কৌতূহলবশত ওখানে দাঁড়িয়ে থাকি৷ কিন্তু উনি একরকম আমাদের তাড়িয়ে দেন৷ পরবর্তীতে যখন আমার এলাকায় দাড়িয়া বাজারের এই ফেতনা যখন চলছিল, তখন ওই মাসির সঙ্গে দেখা হয়৷ উনি তখন আমাকে খুব আদর-আপ্যায়ন করেন৷ আর বলেন, তোমার কোন ভয় নেই৷ তোমার মুর্শিদ সঙ্গে আছে৷ যারা এই ফেতনা চালাচ্ছে অপপ্রচার করছে তারা আল্লাহর গজব পড়বে৷ এই সময় আমি প্রচারকার্য জোর কদমে চালিয়ে যাচ্ছিলাম৷ ইতিমধ্যে ঘুটিয়ারি শরীফ থেকে একদল ইন্ডিয়ান ভাই ঢাকায় বাবার দরবারে নিয়ে যাই৷ কয়েকদিন থাকার পরে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে নিজেরা কথাবার্তা বলছিলাম মাছ খাওয়া হচ্ছে না বলে৷ ইতিমধ্যে বাবাজান উপরে আসেন৷ আমাদের দেখে মোহাম্মদ আলীকে বলেন, এরা মাছের দেশের লোক, এদের মাছের ব্যবস্থা করো৷ আমার সাথীরা অবাক হয়ে গেল৷ যেটা নিজেরা বলাবলি করছিল৷ সেইটা বাবা প্রকাশ করে দিলেন৷ আমরা ঢাকা থেকে ফেরার পরে আমি ভাঙ্গর মাজারে গেলাম৷ সেখানে উরুসে মিলাদ পড়লাম৷ এখানকার পীর সাহেব সিরাজ ফকির খুশি হলেন৷ তিনি আমার বক্তব্য শুনে বাবা দেওয়ানবাগীর ভক্ত হয়ে গেলেন৷ তার দরবারের অনেকগুলো মিলাদ মাহফিল আমি পরিচালনা করলাম৷ সেই সময় থেকে তার ঈদের জামাতের ইমাম হিসেবে আমাকে নিয়োগ করলেন ৷ এরা চিশতিয়া ঘরানার লোক৷ আমার মিলাদের পরে এরা সামার মজলিস করতো৷ এই মজলিসে আমি প্রচুর ফায়েজ পেতাম৷ এই সামার মজলিসে জিকিরের সাথে সামা হত৷ বহু লোকের জজবা হত৷ আমি বাবার দরবারে এই কথা বলেছিলাম৷ এবং পুরো রিপোর্ট দিয়েছিলাম৷ বাবা চুপ করে ছিলেন৷ পরে দরবারের ওই মজলিসে বাবা বলেছিলেন, অনেক ক্ষেত্রে তোমাদের থেকে ফকিররা ভালো৷ সামার মজলিসের বিরুদ্ধে বাবাজান কোন কথা না বলায় আমি সামার মজলিসে হাজির হতাম৷ ঘুটিয়ারি শরিফের প্রতি বৃহস্পতিবার জুম্মার রাতে আমি সামার মজলিসে অংশগ্রহণ করি৷ এবং প্রচুর ফায়েজ পাই৷ এখনো পর্যন্ত আমি ভাঙ্গড় চিশতিয়া দরবার এর ইমাম৷ আমি নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলে আমার প্রতিনিধি ইমামকে পাঠাই৷ কারণ আমি কয়েকটি দরবারের পরিচালক ও ইমাম৷ জাকরা বর্ধমান এ কাদেরিয়া দরবারের ইমাম ও আমি৷ এখানে আমি আমার প্রতিনিধি ইমাম হাশেম সাহেব কে নিয়োগ করেছি৷ প্রতি চাঁদের 22 তারিখে এখানে মাহফিল হয়৷ আমি ফাঁক পেলে উপস্থিত হই৷ এবং বক্তব্য প্রদান করি৷ এছাড়া এই দরবারে বছরে প্রায় 70 টি সভা সংগঠিত হয়৷ এই দরবারের ভক্তরা অধিকাংশ উচ্চশিক্ষিত হাইস্কুলের শিক্ষক প্রধান শিক্ষক ডাক্তার মাস্টার বড় বড় শিক্ষিত ব্যবসায়ী সরকারি কর্মচারী৷ এই দরবার বাবা দেওয়ানবাগী কে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাতু সালাম বলে মেনে নিয়েছে৷ আমি মানাতে সমর্থ হয়েছি৷ এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জাকারিয়া সাহেব একজন উচ্চ পর্যায়ের ওলীআল্লাহ ছিলেন৷ এনার অন্তর্চক্ষু খোলা ছিল৷ বহু অলৌকিক ঘটনা এনার দ্বারা সংঘটিত হয়েছে৷ এলাকায় সবাই ফকির সাহেব বলে মানে৷ ইনি আমাকে আমার মুর্শিদ দেওয়ানবাগী হুজুর কে আনুগত্য করার কথা বলেছিলেন৷ তিনি আমাকে বাবাজানের দরবারে ভালো করে খেদমত করতে বলেছিলেন৷ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখনও এই দরবারে বহু সমস্যা ক্লিষ্ট মানুষ সমস্যা সমাধানের জন্য আসে৷ মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারণার মুখ্য কেন্দ্র এই কাদরিয়া দরবার শরীফ৷
আমি অধিকাংশ মানুষের কাছে তাড়াতাড়ি পৌছাবার জন্য বিভিন্ন দরবার বেছে নিয়েছিলাম৷ এইরূপ একটা বড় দরকার ছিল মেদিনীপুরের সদির উদ্দিন চিশতীর চিশতিয়া দরবার শরীফ৷ এই দরবারে লক্ষ লক্ষ ভক্ত আনাগোনা করত৷ সারা ভারতে বিশেষ করে বাইরের রাজ্যে দিল্লি বিহার উত্তর প্রদেশ উড়িষ্যায় প্রচুর ভক্ত ছিল ৷ এই দরবারের প্রধান বক্তা ছিলাম আমি৷ এই দরবার উগ্র মারেফাতী ছিল এব্যাপারে এই পীর সাহেবের জামাই একটা বই প্রকাশ করে৷ আমি এ বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করি৷ সেই সময় থেকে এই দরবার প্রত্যাখ্যান করি৷ নামায-রোজার বিরুদ্ধে বই লিখেছিলো৷ এ কারণে আমি এটা সমর্থন করি নি৷ এদের কিছু সমর্থক বাবা দেওয়ানবাগী এর গুনো গান সান মান শুনতে নারাজ ছিল৷ এতে আমি বিরক্ত হয়ে দরবার ছেড়ে দিই৷ আসলে যে দরবার আমার মুরশিদের পক্ষে নয়, আমি সেই দরবার এ যাতায়াত বন্ধ করে দিতাম৷ মুর্শিদের শান উঁচুতে তুলে ধরার জন্য আমার এই মিশন৷ তাই যেসব পীর বা সভা আমার মুরশিদের মতবাদকে সমর্থন করত না আমি তাদের সঙ্গ পরিত্যাগ করতাম৷ এরূপ আরেকটি দরবার ছিল হাওড়া জেলার মুন্সিরহাট এর বড় ডিবার পিয়ারা চিশতির দরবার৷ এখান থেকেও আমি বহু সভা পরিচালনা করেছি৷ এই দরবারের আমি প্রধান বক্তা ছিলাম৷ এই পীর সাহেব যখন আমার মুর্শিদের গুনো গান শুনতে অনীহা প্রকাশ করল, আমি তখন থেকে এই দরবার প্রত্যাখ্যান করি৷ এই সমস্ত দরবারে আমার প্রচার চলতে চলতে আমার নিজস্ব একটা সমর্থন গড়ে উঠলো৷ যার ফলে এই দরবারের থেকে আমার প্যারালাল মোহাম্মদী ইসলামের মতবাদের জনগোষ্ঠী গড়ে উঠলো৷ (ক্রমশ চলতে থাকবে)
Scroll to Top