ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- ৬ষ্ঠ পর্ব।

ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- ৬ষ্ঠ পর্ব। লেখকঃ আশেকে রাসুল আক্কাস আলী।
(ভয়েস টাইপিং পদ্ধতিতে লেখার জন্য বানান ভুল মার্জনা করবেন)
আমি বাংলাদেশ দরবারে যাওয়ার পর বাবা দেওয়ানবাগীর সাথে অনেক আলাপচারিতা হয়৷ তিনি বলেছিলেন, আমি নগদে বিশ্বাসী৷ ধর্ম করবে নগদ পাবে৷ বাকির নাম ফাঁকি৷ এপারে হবে না, ওপারে ও হবে না৷ যার ইহকাল নাই তার পরকাল নাই৷ আমি যে ধর্ম পালন করি অর্থাৎ মোহাম্মদী, ইসলাম এর জন্য এক টাকা খরচ করলে দশগুণ থেকে লক্ষ গুণ বৃদ্ধি পাবে৷ আর দুশমনি করলে নগদ গজব পাবে৷ আমি বাড়িতে ফিরে আমার পুরাতন আড্ডাখানায় গেলাম৷ দাঁড়িয়া বাজারে ইয়াকুব মাস্টারের দোকানে আমাদের আড্ডা চলত৷ আমাদের দাঁড়িয়া হাইস্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক আলী সাহেব ডাক্তার ছিলেন৷ ইয়াকুব মাস্টার, উনিও ডাক্তার৷ কাশেম ডাক্তার, নুরুল ইসলাম পুর্কায়েত মাস্টার ছিল৷ আর আমার এক সম্পর্কীয় ভাই হাফেজ লতিফ সাহেব এই আড্ডাখানার শরিক ছিলেন৷ সন্ধ্যার পর থেকে অনেক রাত পর্যন্ত এই আড্ডা চলত৷ দেশ বিদেশের সংবাদ বলাবলি হত৷ হাফেজ লতিফ সাহেব একটা টেপরেকর্ড নিয়ে আসতেন এই টেপ রেকর্ডে বাংলাদেশের মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বক্তৃতার রেকর্ডিং আমাদের শোনাতেন৷ দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত বাংলায় মারেফুল কোরআন এবং বুখারী শরীফ থেকে অন্যান্য হাদিস গ্রন্থ গুলো খন্ড আকারে প্রকাশ হত আর সেগুলো গ্রাহক হিসেবে আলীসাহেব পরস্পর পেতেন৷ এই তাফসির এবং হাদিসের ব্যাখ্যা আমাদের আড্ডাখানায় ব্যাখ্যা করতেন৷ সবাই আমাদের এই আড্ডার মজলিসকে বুদ্ধিজীবীর মজলিস বলে আখ্যায়িত করতো৷ আর আলী সাহেবকে সবাই খুবই বিজ্ঞ ব্যক্তি বলে মনে করতাম৷ আসলে উনি আমারও শিক্ষক ছিলেন৷ আমি ঢাকার অভিজ্ঞতার কথা তাদের কাছে বললাম৷ বাবা দেওয়ানবাগীর নগদ এর ব্যাপারে কথাটা বললাম৷ এরা সবাই শুনে এক কথায় নাকচ করে দিল৷ এত বড় কথা বলতে পারে? তারা বলল যে দেওয়ানবাগী ভন্ড৷ ইয়াকুব মাস্টার একদমে কয়েকবার” ভন্ড দেওয়ানবাগী ভন্ড দেওয়ানবাগী’ বলল৷ অন্য মাস্টার এবং ডাক্তাররা, আমি বাদে সবাই ভন্ড বলে দাবি করলো৷ ইয়াকুব মাস্টার বলল, দুশমনি করলে নগদ গজব হয়? কই আমাদের উপর গজব হয় না? ওই রাতে এই আড্ডাখানা থেকে মনটা খারাপ করে আমি বাড়ি ফিরে এলাম৷ আমাদের দীর্ঘদিনের এই আড্ডার মজলিস শেষ মজলিসে পরিণত হল৷ আর কোনদিন এই মজলিস হয়নি৷ কারণ সকাল থেকে গজব শুরু হল৷ ফজর নামাজের পরে দাঁড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও তাবলীগের মোবাললিগ আবুল মোল্লা আলী সাহেবের কাছে গিয়ে তার বাড়ির জায়গাটা বিক্রির কথা বলল৷ এখানে বিশেষভাবে স্মর্তব্য, এই বাড়ির জায়গা আবুল মোল্লা বিক্রি করে নাই৷ এতদিন আলী সাহেব ফ্রীলি ব্যবহার করতেন৷ আসলে আলী সাহেব যখন এই স্কুলে আসেন তখন ইংরেজি অনার্সের শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছিল না৷ তাঁকে থাকার ব্যবস্থার কথা বলে আনা হয়েছিল৷ তাই এই জায়গাটি আলী সাহেবকে দেওয়া হয়েছিল৷ আলী সাহেব রিটায়ার হওয়ার পরে এখন আবুল মোল্লা ওই জায়গাটি বিক্রি করতে চায়৷ এই কথা শুনে আলী সাহেব রেগে গেলেন৷ তিনি ওই দিনে তার বারুইপুরের বাড়িতে চলে গেলেন৷ বারুইপুর গিয়ে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেন৷ কিছুদিন পর মারা গেলেন৷ ডাঃ কাশেম সাহেব আমাদের মজলিসের দ্বিতীয় ব্যক্তি৷ কাশেম ডাক্তার এর স্ত্রী একটা রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে পালিয়ে গেল৷ এতে ডাক্তারের সামাজিক মর্যাদা পুরো নষ্ট হয়ে গেল৷ মজলিসের তৃতীয় ব্যক্তি হাফেজ লতিফ সাহেব এর ছেলেরা খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ায় বাড়িতে লুটপাট হয় এবং হাফেজ সাহেব বাড়ি ছাড়া হয়৷ চতুর্থ ব্যক্তি নুরুল মাস্টার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অর্ধ উন্মাদ হয়৷ এই মজলিসের প্রধান কর্মকর্তা হলেন ইয়াকুব মাস্টার এর এক ভাইপোর অপমৃত্যুতে তার ছেলেরা এবং ভাইপোরা সবাই মিলে বাপ চাচাদের দায়ী করে মারধর শুরু করে৷ এই অপমানে ইয়াকুব মাস্টার আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্যে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়৷ একটি চিঠি স্ত্রীর কাছে বাড়িতে না ফেরার কথা লিখে চলে যায়৷ এইভাবে আমাদের দীর্ঘদিনের আড্ডার মজলিশে বাবা দেওয়ানবাগীর গজব নিপতিত হয় এবং মজলিসটি বন্ধ হয়ে যায়৷ পরবর্তীতে নুরুল মাস্টার আমার কাছে হাত দুখানা ধরে বাবা দেওয়ানবাগীর দয়া ভিক্ষা চায়৷ বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন৷ বহুদিন পরে হাফেজ লতিফ সাহেব উদভ্রান্তের মত ঘুরতে থাকে৷ আমি বললাম ওলীআল্লাহর দুশমনি করলে নগদ গজব হয়৷ দেখ কেমন লাগে৷ (ক্রমশ চলতে থাকবে)
Scroll to Top