ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- সপ্তম পর্ব।

ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- সপ্তম পর্ব। লেখকঃ আশেকে রাসুল আক্কাস আলী।

(ভয়েস টাইপিং পদ্ধতিতে পোস্ট করার জন্য বানান ভুল মার্জনা করবেন)

আমি 1972 সালে যখন ক্লাস নাইনে পড়তাম তখন থেকে আমার আরবি শিক্ষক মাওলানা আমজাদ সাহেবের সঙ্গে তাবলীগ জামাতে সময় দিতাম৷ 1974 সালে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার পরে চিল্লায় যাই৷ এই জামাতের আমির সাহেব ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটির সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর খালেদ সাইফুল্লাহ সাহেব৷ তাঁর কথাবার্তা ছিল সুন্দর ও আচরণ অমায়িক৷ তার সঙ্গে আরো দুজন বাংলাদেশের মুরুব্বী ছিলেন৷ এরা সব সময় ন্যাড়া হয়ে থাকতেন৷ আমরাও অনেকে ন্যাড়া হয়েছি৷ কারণ হিসেবে জানতাম, এটা নবীর সুন্নত৷ কিন্তু পরবর্তীতে তরিকায়ে আসার পরে জানলাম নবী হজ কার্য সমাধা করে নাড়া হয়েছিলেন৷ জীবনে হজ না করে ন্যাড়া হওয়ার প্রশ্ন নেই৷ যাহোক আমরা তো ধর্ম-কর্ম করি আন্দাজে৷ বাবা দেওয়ানবাগীর কাছে এসে সঠিক পদ্ধতিতে ধর্ম পালন করার শিক্ষা পাই৷ 1978 সালের গোড়ার দিকে আমি হরিমুল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করি৷ এই সময় আমার সহকর্মী হিসেবে আসেন মাওলানা আব্দুর রশিদ সাহেব৷ পরবর্তীতে এই মাদ্রাসা থেকে সরে গিয়ে তিনি পাশের অঞ্চলে মরাপিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন৷ এ সময় আমি তাবলীগ জামাতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলাম এবং মরাপিয়া মাদ্রাসার পৃষ্ঠপোষক ছিলাম৷ এই সময় থেকে 1997 সাল পর্যন্ত তাবলীগ জামাত এবং মরাপিয়া মাদ্রাসার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিজের পরিচিতি ছিল৷ 1997 সালে ঢাকায় বাবা দেওয়ানবাগীর দরবারে আসার পরে তার চিন্তাধারা নিয়ে যখন এলাকায় প্রচার করতে লাগলাম ,মোহাম্মদী ইসলামের প্রসার ঘটাতে লাগলাম, তখন এই রশিদ সাহেব হলেন আমার প্রধান দুশমন৷ এর আগে আমি বলেছিলাম যে দাঁড়িয়া বাজারে আমার বিরুদ্ধে সত্তরটা মসজিদের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করেছিল৷ একদিন আমার বাড়ির পাশে হাটপুকুর পুলের ধার বাজারে তাকে দেখতে পাই৷
আমি বললাম, আপনি আমার বন্ধু লোক৷ এমনভাবে অপপ্রচার করছেন কেন? তিনি বললেন, তুমি ওইসব ছাড়ো৷ দেওয়ানবাগ ছাড়ো৷ এইখানে একপর্যায়ে আমি মোবাহেলায় অংশগ্রহণ করলাম৷ আমি বললাম, আমি যদি ভুল করি আল্লাহ যেন আমার মাথায় বাজ ফেলে, আর আমার কন্ঠ বন্ধ করে দেন৷ আর আপনি যদি ভুল করেন, আপনার মাথায় বাজ ফেলতে চাইনা, তবে আপনার কন্ঠ বন্ধ হয়ে যাক৷ 15 দিনের মধ্যে কন্ঠ বন্ধ না হলে আমি আপনার মুরিদ হয়ে যাব৷ দেওয়ানবাগ ছেড়ে দেব৷ এই বাজারে অনেক গণ্যমান্য লোক উপস্থিত ছিল৷ প্রাক্তন সফি প্রধান উপস্থিত ছিলেন৷ তাদের সামনে এই মোবাহেলা হয়৷ আল্লাহ পাক এই মোবাহেলা গ্রহণ করলেন৷ 15 দিনের মধ্যে তার ব্রেইন স্ট্রোক হয়৷ এবং তাতে কণ্ঠ বন্ধ হয়ে যায়৷ তার পক্ষ থেকে আমার কাছে লোক আসে, বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করে৷ কিন্তু আমিতো জানিনা, কিভাবে কন্ঠ খুলে যাবে? কারণ এ ব্যাপারে আমার মুর্শিদ এবং আল্লাহর হাত রয়েছে৷ শেষ পর্যন্ত এই রশিদ সাহেব এই রোগে মারা গেল৷ আমার জীবনের এলাকার প্রধান দুশমন এইভাবে অচিরে প্রাণটা হারালো৷ এরপর ওই মাদ্রাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বড় নজরুল সাহেব আমার সাথে ঢাকা দেওয়ানবাগ দরবার শরীফে যান এবং তরিকা নেন৷ দুইদিন ওই দরবারে তিনি উপস্থিত ছিলেন৷ সর্বাবস্থায় দুই হাত জোড় করে বাবার সামনে থাকতেন৷
 
আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়া বাজারে যে সভা সংগঠিত হয়েছিল, সেই সভায় মরাপিয়া মাদ্রাসা এবং হরিমূল মাদ্রাসা যৌথ ভূমিকা নিয়েছিল৷ হরিমূল মাদ্রাসায় তখন ফুরফুরা পন্থীরা প্রধান পৃষ্ঠপোষক৷ এই মাদ্রাসার হেডূ মাওলানা ছিলেন মওলানা সাইফুদ্দিন সাহেব৷ এনার বাড়ি মরাপিয়া সংলগ্ন ডেবীশাবাদে৷ এই মরা পিয়াতে একটা জলসা আমার এক সমর্থক ভাই সংগঠিত করেছিল৷ কিন্তু সেই জলসা এই হরিমূল মাদ্রাসার হেড মাওলানা সাইফুদ্দিন সাহেব করতে দেননি৷ তিনি আমাকে পরিষ্কার বললেন, এই এলাকায় ফুরফুরা সিলসিলা ছাড়া কোন সিলসিলা চলবে না৷ তোমার দেওয়ানবাগের প্রচার এখানে চলবে না৷ ইতিমধ্যে দাঁড়িয়া বাজারে তাদের সভার সভাপতি ছিলেন দাঁড়িয়া অঞ্চলের প্রধান মনসুর আলী নাইয়া সাহেব৷ ইতিমধ্যে তিনি বাবা দেওয়ানবাগীর একটা ওয়াজের ক্যাসেট শুনছিলেন৷ পরে ক্যাসেটটি চেয়ে নিয়ে বারবার শুনেছিলেন৷ তাতে তাঁর মনের পরিবর্তন হয়৷ তিনি ওই ক্যাসেট শুনে কাঁদতে থাকেন৷ বলেন , এই ব্যক্তি নিঃসন্দে ওলীআল্লাহ —বলে কাঁদতে থাকেন৷ তিনি আমাকে নিয়ে পাল্টা সভা করতে চান৷ এবং ঢাকা দরবার থেকে আলেমদের দাওয়াত করতে চান৷ আমি ইতিমধ্যে ঢাকা দরবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি৷ এই সময় দরবার থেকে মাওলানা রুহুল আমিন কুদ্দুসী সাহেব, মাওলানা শাহ আলম সাহেব, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান মিয়া, কর্নেল আনোয়ার সাহেব প্রমূখ ব্যক্তিত্ব এই পাল্টা সভায় উপস্থিত হন৷ এই সভা বন্ধ করার জন্য মরাপিয়া মাদ্রাসা বিশেষ করে হরিমুল মাদ্রাসার মাওলানা গন প্রধান সাহেব অর্থাৎ মনসুর আলী মিয়ার কাছে দরবার করে৷ বারবার আপত্তি করে এইসভা না করার জন্য৷ মনসুর সাহেব বলেন, আপনারা থাকুন ওরাও থাকবে৷ আর এই এলাকায় আক্কাস সাহেব একা৷ ও যদি ভুল করে, মাথা ন্যাড়া করে আলকাতরা মাখিয়ে বাজারে ছাড়বো৷ সেই সভায় এরা কেউ উপস্থিত থাকে নি৷ হাজার হাজার লোক হয়েছিল৷ এরা অনেকে হাজী রুমাল এর ঘোমটা দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে সব শুনছিল৷ সভার শেষে মনসুর সাহেব বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আমি এই সব মাওলানাদের উপস্থিত থাকতে বললাম৷ আমি দেখলাম এরা সামনে আসেনি৷ ঘোমটা দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল৷ আসলে এরা ধান্দাবাজ৷ 10 টাকা চাঁদা তুলে 5 টাকা পকেটে পুরে৷ এরা ফালতু ধর্মের অপপ্রচার করছে৷ আমাকে এরা বারবার নিষেধ করেছে৷ কিন্তু ঢাকার এইসব ভায়েরা কত সুন্দর ওয়াজ-নসিহত করেছে৷ আল্লাহ রাসুলের কথা বলেছে৷ আমাদের চোখ দিয়ে পানি এসেছে৷ মনটা ভরে গেছে৷ এরপর তিনি আমার সঙ্গে সর্বাবস্থায় যোগাযোগ রাখতেন৷ তিনি বললেন, আমি দরবারে যাব৷ শুধু তাই নয় বাবা দেওয়ানবাগীকে আমাদের এলাকায় আনব৷ যত ঝঁকি নিতে হয় আমি নেব৷ তিনি ক্রমান্বয়ে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন৷ কিন্তু তার আগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনেক দুশমন ছিল৷ যার কারণে তিনি অকালে খুন হন৷ ইতিমধ্যে হরিমুল মাদ্রাসার হেড মোদারেস সারফুদ্দিন সাহেব মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত হলেন৷ পরে গোবরা মারি তারপরে তেঁতুলবেড়িয়া মসজিদ থেকে বিতাড়িত হলেন৷ এবং সুগার রোগী হয়ে গেলেন৷ ভুগতে ভুগতে মারা গেলেন৷ এভাবে দুই মাদ্রাসার হেড মুদারিসদের মুহাম্মদী ইসলামের দুশমনির অবসান ঘটল৷ (ক্রমশ চলতে থাকবে)
Scroll to Top