ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- অষ্টম পর্ব।

আশেকে রাসুল আক্কাস আলী- ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- অষ্টম পর্ব। (ভয়েস টাইপিং পদ্ধতিতে পোস্ট করার জন্য বানান ভুল মার্জনা করবেন)

দাঁড়িয়ায় মনসুর নাইয়ার খুন হওয়ার পর আমাদের দুশমনেরা আকাশের চাঁদ হাতে পেল৷ তারা যারপরনাই খুশি হলো এবং আমার দুশমনী বাড়িয়ে দিল৷ দাঁড়িয়া বাজারে একদিন সন্ধ্যার পরে এরা চক্রান্ত করে আমার সাথে আলোচনার নাম করে একটা নির্জন পরিত্যক্ত দোকান ঘরে নিয়ে গেল৷ আলোচনা হতে হতে উত্তপ্ত হয়ে উঠলো৷ একপর্যায়ে তারা আমাকে জোর করে একটা সাদা কাগজে সই করিয়ে নিতে চায়৷ আর বলতে চায়, আমাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, আমি বাংলাদেশ ঢাকা দেওয়ানবাগ দরবার শরীফে যাব না৷ আর এসব প্রচার করব না৷ যেহেতু আমি এখানে একা ছিলাম, ওরা দশ-বারোজন ছিল৷ ওরা আমাকে ছাড়ছিল না৷ আমি বাবার দিকে খেয়াল করে দোকানের বারান্দায় একটা খুঁটি ঘেষে দাড়ালাম৷ এই খুটিটা নড়বড়ে৷ গরান কাঠের কী বাঁশের খুঁটি৷ আমি ওই খুটি টান দিয়ে তোলার ভঙ্গিতে একটা হাক দিলাম৷ মুখ দিয়ে একটা অশ্লীল শব্দ বের হল৷ তখন আমার মধ্যে এমন একটা শক্তি বাবাজান দয়া করে দিলেন যে, আমি একা এদের দশজনকে পাকড়ে ফেলতে পারি৷ আমার আওয়াজ শুনে মনসুর নাইয়ার বড় ভাই ছুটে আসলেন৷ এসে ওই সমস্ত দুশমনদের বকাবকি করতে লাগলেন এবং খুব ধমক দিলেন৷ এরকম যদি কোন দিন দেখি তোমাদের একজন কে ছাড়বো না৷ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই দাঁড়িয়া বাজারে মনসুর নাইয়াদের খুব প্রভাব-প্রতিপত্তি৷ এদের উপরে কেউ কথা বলতে পারে না৷ যাই হোক সেদিন এখান থেকে আমি নিষ্কৃতি পেলাম৷
 
ইতিমধ্যে আমাদের এলাকা থেকে কয়েকজনকে বাংলাদেশ দেওয়ানবাগ শরীফে নিয়ে গেলাম৷ এরা তরিকা নিয়ে আমার সঙ্গে চলাফেরা করতে লাগলো৷ আমার বাড়িতে খানকা শরীফে প্রতি সপ্তাহে মিলাদ মাহফিলে এরা অংশগ্রহণ করতে লাগলো৷ এছাড়া এলাকার লোকজন দের আমরা দাওয়াত দিতাম৷ তাতে কমপক্ষে 50 থেকে 100 বাইরের লোক আসত৷ এদের তাবারুকের ব্যবস্থা হত৷ তার ভিতরে মরাপিয়া মাদ্রাসা পন্থী তাবলীগের লোকেরা আমাদের দুশমনি করতে লাগলো৷ আমাদের আশেকে রাসুল ভাইদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করতে লাগলো৷ পুরো এলাকা জুড়ে তখন আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার৷ এমনভাবে অপপ্রচার চলত যে আমরা এবং আমাদের মুর্শীদ দুনিয়ার সবথেকে খারাপ মানুষ৷ বাড়িতে আমার পরিবার পরিজনদের সঙ্গে এরা কলহ করতো৷
 
ইতিমধ্যে রশিদ সাহেবের মৃত্যুর পর মরাপিয়া এলাকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব আমাদের সঙ্গে ঝামেলা বাধিয়ে দিলো৷ তখন মরাপিয়া সিপিএম পার্টির নেতারা বেশিরভাগ বাহুবলী ছিল৷ তাদের অনেক নেতাদের বোম বন্দুক ছিল৷ এদের হাতে অনেক রাইফেলধারী মস্তান ছিল৷ এরা এলাকায় বিচার করতো এদের উপরে কেউ মাতব্বরি করতে পারত না৷ এদের এক মস্তান নেয়ামত মন্ডল একদিন পুলের মুখ বাজারে আমাকে ধমকালো৷ আমাকে সতর্ক করে বলল যে, তুমি কোনদিন এই এলাকায় মিলাদ পড়বে না৷ মিলাদ করলে কিংবা পড়লে খবর আছে৷ তোমাকে এলাকাছাড়া করা হবে৷ সে আমার গালের উপরে প্রায় হাত তুলতে গেল৷ আমি এসব কথা তাদের নেতার কাছে জানালাম৷ তাদের নেতা মহিউদ্দিন সাহেব আমাকে বলল, এটা নেয়ামতের ভুল হয়েছে৷ একটা আলেম কে এভাবে অপমান করা ঠিক হয়নি৷ আর তোমারও ভুল৷ আমি বললাম আমার কি ভুল? সেই নেতা বললেন, সমস্ত এলাকার মানুষ একদিকে, আর তুমি একা একদিকে৷ সমস্ত আলেম একদিকে৷ আর তুমি একা একদিকে৷ এটাই তোমার ভুল৷ আমি বললাম সত্য যদি একটা হয়, মিথ্যা হাজারটা হয়; কোনটা ধরব? তারা বলল ওসব জানি না৷ আমি বললাম, তাই হোক, আমি যদি মিথ্যার উপরে থাকি, আল্লাহ পাক আমাকে ধ্বংস করে দিক৷ তখন ওই নেতার বাড়ির লোক এলাকার বিচারক বলল, ঠিক আছে; আমরাও যদি ভুলের মধ্যে থাকি, আমরা ধ্বংস হয়ে যাব৷ আমি বললাম, আমার মালিক কঠিন এবং কঠোর৷ মহিউদ্দিন সাহেব রেগে গিয়ে বললেন, কি বললে, এত বড় কথা৷ আমি বললাম, আমার আল্লাহর ক্ষমতা আছে৷ তিনি বললেন, ও তোমার আল্লাহ আছে, আর আমাদের আল্লাহ নেই! আমি বললাম আমি আল্লাহর সঙ্গেই আছি৷ আল্লাহ আমার সঙ্গে আছে৷ যেহেতু আমি সত্যের উপরে আছি৷ এই বলে সে দিন চলে এলাম বাড়িতে৷ ইতিমধ্যে আমাদের এক জাকির ভাই তার নাম সাহেব ভাই৷ তার বাড়িতে একটা মিলাদের আয়োজন করা হলো৷ নেয়ামত সাহেব ওই সাহেব ভাইয়ের বাড়িতে সকালে গেল৷ মিলাদের খবর শুনে রেগে গেল৷ তার সঙ্গে ওই পাড়ার সিদ্দিক মস্তান ছিল৷ সে বলল, তাবারকের গোস্ত যখন নিয়ে এসেছো, তখন আমরা খাব৷ মিলাদে আসব, তবে আক্কাস সাহেব যদি আসে, খবর আছে৷ পিঠে বস্তা বাঁধো৷
 
আমরা দাঁড়িয়ায় একটা বিচারে যাচ্ছি৷ ওখান থেকে ফিরে এসে সন্ধ্যায় মিলাদে আসব৷ আমাকে না যাওয়ার ব্যাপারে খুব হুমকি দিল৷ তার কয়েকদিন আগে থেকে এরকম হুমকি দিচ্ছিল৷ আমি দরবারে যোগাযোগ করি৷ বাবাজান বললেন, তোমরা মিলাদ চালিয়ে যাও৷ ওরা কেউ থাকবে না অর্থাৎ আমাদের বিরোধীরা কেউ থাকবে না৷ এ কারণে আমরা মিলাদের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম৷ আর বাবার কথা আমার সাথীদের বিশেষ করে সাহেব ভাইয়ের ভায়রা ভাইয়ের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস সাহেব কে একথা আমি বলি৷ এরা যখন সকালে ধমক দিয়ে বিচার সভায় যায়, তখন সাহেব ভাই আমাকে জানায়৷ আমি বললাম আমি মিলাদে যাব৷ তোমার ভয় লাগলে তুমি চলে যাও বাড়ি ছেড়ে৷ ইতিমধ্যে আমি ট্রেনে বেতবেড়িয়া ঘোলা স্টেশনে নামি৷ যতদূর সম্ভব সময়টা ছিল বেলা 11 টার পরে পরে৷ এই সময় নেমে খবর শুনলাম, ওই নেতারা পাঁচজন বিচার স্থলে স্পট ডেথ হয়৷ পার্টি গত ঝামেলা৷ আমরা জানি তারা মিলাদে থাকবে না৷ কিন্তু দুনিয়াতে যে থাকবে না, আমরা ভাবতে পারি নি৷ আমরা যথা সময়ে ওই দিনে মিলাদ সম্পন্ন করলাম৷ দুর্ভাগ্য আমার দেশের লোকদের, যারা দেওয়ানবাগে যায়নি৷ এই জাহেল আলেম দের কাছ থেকে শুনে তারা বিরুদ্ধ হয়েছিল আর ওলীআল্লার গজব আমার এলাকায় নেমে এসেছিলো৷ আমরা এই সময় রাতের পর রাত বা দিনের বেলা হাজার হাজার বার দরুদে সাইফুল্লাহ পড়তাম৷ কারন, চলার পথে এত দুশমন, উপায় ছিলনা৷ এদিকে মুর্শিদপ্রেম ভরপুর৷ কখন আবার মুর্শিদ কে দেখতে যাব৷ (ক্রমশ চলতে থাকবে)
Scroll to Top