আশেকে রাসুল আক্কাস আলী- ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- নবম পর্ব।

আশেকে রাসুল আক্কাস আলী- ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার ও পটভূমিকা- নবম পর্ব। (ভয়েস টাইপিং পদ্ধতিতে পোস্ট করার জন্য বানান ভুল মার্জনা করবেন)
 
আমরা ভারতে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে আমাদের এলাকায় প্রচুর বাধার সম্মুখীন হয়েছিলাম৷ যত বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন এমনকি পাড়া-প্রতিবেশী সবাই দুশমনে পরিণত হয়েছে৷ আমি মা-বাবার একটি পুত্র সন্তান এবং তিনটি বোন৷ তবে আমার বৈমাত্রেয় তিনটি ভাই ছিল৷ ছোট ভাইটা আমার তরিকার দুশমন হয়েছিল৷ চাচাত ভাইরা কেউ মানতো না৷ ঘরে বাইরে চারধারে শত্রু৷ শুধু আমার পরিবার পরিজন আমার পাশে ছিল এবং অত্যাচারিত হয়েছিল৷ এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য আমার দুটি স্ত্রী ছিল৷ তাবলীগ করার সময় ইজতেমায় 25 বছর বয়সে নবীর সুন্নত ভেবে বিধবা বিবাহে মত দিয়ে এক বয়স্কাকে বিয়ে করেছিলাম৷ তিনি এক সন্তানের মা, যদিও বয়স্কা ছিলেন৷ কিন্তু গুণবতী ছিলেন৷ দুই হাজার তেরো সালে তিনি ইন্তেকাল করেন৷ মুহাম্মদী ইসলাম প্রচারে তার অনেক অবদান আছে৷ পরে এ বিষয়ে আলোকপাত করব৷ আমার ছোট স্ত্রী আমার দেশের বাড়ী জন্ম ভিটেয় থাকত৷ বড় স্ত্রী তার বাপের বাড়ীতে থাকত৷ আমি আমার দুই স্ত্রী দুই ছেলে এবং তিন মেয়েকে নিয়ে বাবা দেওয়ানবাগীর দরবারে যাই৷
 
এরা প্রত্যেকে আশেকে রাসুল৷ বাবার পাক জবানে বলেছিলেন, আক্কাসের পরিবারের সবাই আশেকে রাসুল৷ যার কারণে এরা আমার ঘনিষ্ঠ সমর্থক৷ আমার তিন বোন আমার সমর্থন করত৷ আমার এক বৃদ্ধ চাচা শেষ বয়সে মোহাম্মদী ইসলামের তরিকা নিয়েছিল৷ তার ছেলেরা অবশ্য মানতো না৷ আমি তার সঙ্গে শেষ সাক্ষাতে সফরের আগে বলেছিলাম, আপনি মুখে শুধু বাবা বাবা বলবেন৷ ক্বালবটা দেখিয়ে বলেছিলাম, এর ভিতরে আল্লাহ আল্লাহ হচ্ছে৷ এটা সবসময় শুনতে থাকবেন৷ নামাজ তো জানেন না৷ হাঁটা ছোটা খুব একটা করতে পারেন না৷ তাই অন্তত বসে বসে নামাজ পড়বে৷ নামাজের মত ভঙ্গিমা করে রুকু সেজদা দেবেন৷ আল্লাহ আল্লাহ করবেন৷ এইভাবে উনি বসে বসে নামায পড়তেন৷ আমি বললাম, আর হয়তো দেখা হবে না৷ আমি মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারে সফরে যাচ্ছি৷ মরনে হয়তো মাটি দিতে পারব না, তবে আপনার কষ্ট হবে না৷
 
আমার মুরশিদ দয়া করবেন৷ উনি মাগরিবের নামাজ পড়া অবস্থায় ইন্তেকাল করেন৷ আমি তখন সফরে ছিলাম৷ আমার এই তরিকা প্রচারে ভাইয়েরা, অন্যান্য চাচার ছেলেরা কেউ খুশি ছিল না৷ তারা সব নামে ফুরফুরা পন্থী৷ ধর্ম তেমন বুঝতনা, আর করত না৷ আমার বৈমাত্রেয় ছোট ভাই আমার এই প্রতিকূল পরিবেশে আমাকে ঘর ছাড়ার একটা চেষ্টা করতে লাগলো৷ আর্থিক অবৈধ সুবিধা পেতে লাগল৷ সে আমাকে আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতি করেছিল৷ এলাকার বড় মস্তান ছিল তার শ্বশুর৷ যার ফলে সে রাজনৈতিক ফায়দা টা পেয়েছিল৷ সে আমার এক চাচাতো বোনের ছেলে (সমাজবিরোধী) কে নিয়ে আমার বাড়িতে ডাকাতি করায়৷
 
আমি তখন বাংলাদেশে ঢাকা দরবার শরীফে৷ আমার বাড়ির দুই ধারে রাস্তা৷ তখনো বাড়ির গেট ছিলনা৷ তাই সহজে ডাকাতরা বাড়িতে ঢুকে৷ সেদিন রাতে আমার আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে ছিল৷ এই ডাকাতরা একসময় আমার ঘরের মধ্যে ঢুকে আমার স্ত্রীর হাতে কোপ মারে৷ টাকা পয়সা সোনা দানা বের করতে বলে৷ কিন্তু ইত্যাবসরে ওরা বাইরে থেকে ইঙ্গিত পেল, পালিয়ে যেতে হবে৷ ওরা হুড়মুড় করে পালিয়ে চলে গেল কোন কিছু না নিয়ে৷ এমন সময় আমার ওই বাড়ির ভাইরা ছুটে আসে৷ ওরাই ভক্ষক ওরাই আবার রক্ষক৷ ওরা আমার স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তারখানায় যায়৷ যেহেতু তার হাত দিয়ে রক্ত পড়ছিল৷ তার হাতে অনেকগুলো সেলাই পড়েছিল দরবারে যাওয়ার পরএই সেলাইয়ের দাগ দয়াল মা যখন দেখেছিলেন, তখন আঁতকে উঠেছিলেন, আর বলেছিলেন, তরিকার জন্য তোমরা অনেক কষ্ট পেয়েছ৷ আমার শ্যালক এবং ভায়রাভাই ওই রাতে আমাদের বাড়িতে ছিল৷ আমার ভায়রা ভাই দেখছিল, যেন আমি ওই গভীর রাতে ডাকাতির পর ঘরের দরজায় এসে দাঁড়াই, আর হাইনিঃশ্বাস ফেলে ” ওহ ‘বলছিলাম৷ ওই ভায়রাভাই আমাকে মেজভাই মেজ ভাই বলে কাছে যাচ্ছিল৷ অথচ আমার ওই প্রতিমূর্তি ঘরের বাইরে গিয়ে রাস্তা থেকে উধাও হয়ে গেল৷ আমার অন্যান্য বোনেরা সবাই খোঁজাখুঁজি করছিল৷ ভাই এল, কোথায় গেল ?এরপর এরা চিন্তায় পড়ে গেল৷ ব্যাপারটা কি ? আর ভাই এত রাতে আসবে কিভাবে
 
আর নিজের বাড়ি থেকে উধাও হবে কিভাবে ? তখন এরা ভাবল আসলে এটা বাবাজানের খেলা৷ আমার ওই দুষ্টু ছোট ভাইটা আসলে ডাকাতির সময় গেটে পাহারাদার ছিল৷ সে আমার প্রতিমূর্তি দেখতে পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল৷ তার এই দুষ্টামি কে বাবাজান নগদ শিক্ষা দিয়েছিলেন৷ তার এই বিশ্বাসঘাতকতায় বাবা দেওয়ানবাগী কঠিন শাস্তি দিয়েছিলো৷ সে একটা ফালতু কে সে আটকে পড়েছিল৷ জামিন পাচ্ছিলনা৷ আমি দরবার থেকে ওই রাতে ডাকাতের ঘটনা টা বাবা প্রত্যক্ষ করালেন৷ তাই তাড়াতাড়ি দরবার থেকে বিদায় নিয়ে এলাম৷ আমার স্ত্রী ডাকাতদের চিনলেও নাম বলতে চাচ্ছিল না৷ কারণ আমার শত্রু চারধারে৷ ছিল একা৷ মৃত্যুর ভয় সে জড়োসড়ো ছিল৷ আমি তাকে বললাম যে, কারা ডাকাতি করেছে ? বাবা আমাকে সব দেখিয়েছেন৷ সে অবাক হয়ে গেছে এবং এরপর আমি থানায় ডাইরি করি৷ যদিও তখন আমার প্রতিকূল পরিস্থিতি৷ রাজনৈতিক পরিবেশ আমার বিপরীত৷
 
সামাজিকভাবে আমি বিচ্ছিন্ন৷ নিজের সৎ ভাই যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে, চাচাতো ভাইয়েরা যদি তাতে জড়িয়ে থাকে, তাহলে বসবাস করা কঠিন হয়ে যায়৷ এই সময় আমার মুর্শিদ আমার সহায় ছিল৷ এই নাটের গুরু আমার ঐ ছোট ভাই রেপ কেসে আটকে পড়ে৷ আমার বিমাতা সারারাত আমার বাড়ির প্রাচীরে বসে বসে কাঁদে৷ আমি ছাড়া তাকে জামিন করে আনবার লোক ছিল না৷ এই সমস্ত ভাইয়েরা সবাই ঐ রেপ কেসের গন্ডগোলের মধ্যে পড়েছিল৷ আল্লাহ পাক এইভাবে অসৎ কাজের শাস্তি দেন৷ আমরা কিন্তু এ সময় প্রতি সপ্তাহে খানকা শরীফে সাপ্তাহিক মিলাদ মাহফিল চালিয়ে যাচ্ছিলাম৷ আমাদের প্রচার আরো দুর্বার গতিতে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল৷ এ সময় আমাদের পরিবার পরিজন সবাই বহু অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করি৷ বহু মানুষ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের কাছে আসে এবং দ্রুত তার সমাধান হয়৷ যার ফলে আমাদের একটা ভালো ভাবমূর্তি এলাকায় তৈরি হয়৷ (ক্রমশ চলতে থাকবে)
Scroll to Top